কিভাবে দীর্ঘদিনের জন্য মুখস্থ করবেন???
এটা দীর্ঘদিন কুরআন মুখস্থ রাখার একটি চমৎকার উপায় !!!

মুখস্থ করে মনের গভীরে গেঁথে রাখার পদ্ধতি:

১. প্রতিটি লাইন দশবার করে দেখে পড়া। তারপর নিজে নিজে তা পুনরাবৃত্তি করা।

এভাবে পড়া হয়ে গেলে পরের লাইনে/আয়াতে অগ্রসর হন। যদি কোন শব্দ মনে রাখতে সমস্যা হয় তাহলে সেটির আগের ও পরের শব্দসহ ৫ বার পড়ুন (আগের শব্দ + কঠিন শব্দ + পরের শব্দ)। তারপর পুরো লাইনটি আবার মনে মনে পড়ুন।

২. তারপর পরের লাইন দশবার পড়া।

দুইবার পড়ে নিজে নিজে পুনরাবৃত্তি করবেন না…একদম না !!! সেটা ভুল হবে !!!

আপনি যদি একবার পড়েই মুখস্থ করে ফেলেন তবুও বার বার ততক্ষন দেখে পড়বেন যতক্ষণ না আপনার মনে শব্দগুলো লাইনের ভিতরে গেঁথে যায়।

প্রথম লাইনটি দশবার দেখে পড়ুন, পরের লাইনটিও দশবার দেখে পড়ুন।

এখন এই দুইটি লাইন একসাথে তিনবার দেখে পড়ুন, তারপর মনে মনে পড়ুন। তারপর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এভাবে পৃষ্ঠার শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

এটাকে বলা হয় স্বল্প মেয়াদী মুখস্থ। কয়েক সপ্তাহ পরেই এটা ভুলে যেতে পারেন।

কিভাবে এই পৃষ্ঠাটি দীর্ঘমেয়াদের জন্য মুখস্থ করতে পারবেন??

আপনার মুখস্থ করা পৃষ্ঠাটি খুলুন, দেখে দেখে ২০ বার পড়ুন। ভাল হয় যদি লাইন গুলোর উপর আঙ্গুল রেখে পড়েন।

এটি আপানর মাথায় গেঁথে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর এটি আপনি ভুলবেন না। আল্লাহকে শুকরিয়া। কেন?

কারণ আপনি যদি পৃষ্ঠাটি ২০ বার দেখে দেখে পড়েন, আপনার চোখ সেই পৃষ্ঠার ছবি তুলে রাখবে, আর তা আপনার মাথায় গেঁথে যাবে। আল্লাহ যদি চান আপনি তা আর কখনও ভুলে যাবেন না।

জান্নাতে সর্ব প্রথম গান শোনাবেন হুরেরা: কেমন হবে সেই গান

জান্নাতে সর্ব প্রথম গান শোনাবেন হুরেরা। তাতে কেটে যাবে ৭০ বছর। জান্নাতি বাতাসে গাছের পাতার সাথে মিলিয়ে অপূর্ব এক বাজনা সৃষ্টি করবে। আর জান্নাতের হুরদের সাথে সুর মিলাবে! সুরের মুর্ছনায় গোটা জান্নাত মুখরিত হয়ে যাবে!!

আল্লাহ্ তখন জান্নাত বাসীদের কাছে জানতে চাইবেন, “কেমন লাগলো”? সকলেই জবাব দিবে, “খুব ভাল”, আল্লাহ্ বলবেন, “এর চেয়েও ভাল শোন”? জান্নাত বাসী বলবে “হে আল্লাহ্ এর চেয়ে ভাল কি”? তখন আল্লাহ্ হযরত দাউদ (আঃ)কে ডাক দিয়ে বলবেন, “হে দাউদ এবার তুমি শুনাও”!!

দাউদ (আঃ) বলবেন, “হে আল্লাহ্ আমার কন্ঠ তো দুনিয়াতে ছিল যবুর শরীফে”। আল্লাহ্ বলবেন, “তোমার কন্ঠ ফিরিয়ে দিলাম, কোরআন শরীফ শোনাও”! হযরত দাউদ(আঃ) কোরআনের সুরা আর রহমান শোনাবেন! জান্নাত বাসী মুগ্ধ হয়ে যাবে!!
আল্লাহ্ আবার বলবেন, “কেমন লাগলো”? জান্নাতিরা বলবে, “মারহাবা, খুব ভাল লাগলো”! আল্লাহ্ বলবেন, “এর চেয়ে ভাল শোন জান্নাত বাসীরা”। বলবে “হে আল্লাহ্ এর চেয়ে ভাল কি হতে পারে”?? আল্লাহ্ পাক রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কে বলবেন, “হে আমার প্রিয় হাবিব এবার আপনি ওদের শোনান”! রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) কোরআনের হৃদয় সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবেন! পুরা জান্নাত আনন্দে মুখরিত হয়ে যাবে আর ধ্বনি তুলবে,”আল্লাহু আকবার”!!
আল্লাহ্ আবারও জানতে চাইবেন, “কেমন লাগলো”? জান্নাত বাসীরা বলবেন, “আল্লাহ্ সবকিছু থেকে এটাই বেশি ভাল লাগলো”! আল্লাহ্ বলবেন, “এর চেয়েও ভাল আছে”। জান্নাতবাসী অবাক হয়ে বলবে, “আল্লাহ্ এর চেয়ে ভাল কিছু আছে”? আল্লাহ্ জবাব দিবেন, “এর চেয়ে ভাল যা তা হলো তোমাদের রব”! আল্লাহ্ বলবেন, “রিজওয়ান (একজন ফেরেস্তা)পর্দা সরিয়ে দাও, আজ আমার বান্দা আমার দীদার করবে, আমাকে দেখবে”! “আল্লাহু আকবার”! পর্দা সরে যাবে ও সবাই আল্লাহর দীদার লাভ করবে!!

আল্লাহুকে দেখার পরে বান্দা অস্থীর হয়ে যাবে! তখন জান্নাতের হুর কি? শরাব কি? নহর কি? ফল কি? সব কিছুকে মূল্যহীন মনে হবে! বান্দা বলবে,”আল্লাহ্ কিছুই চাইনা, শুধু তোমার দীদার চাই!তোমাকে দেখতে চাই”!
আল্লাহ্ আমাদের কে জান্নাতে কবুল করুন! আমিন! তাই আসুন সকলেই যে যেই অবস্থায় আছি নামাজ কায়েম করি! হে আল্লাহ্ তুমি সবাইকে তোমার ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার মত তৌফিক দান করুন!
সংগৃহীত ।

বাগদাদের একটি মেয়ের গল্প

বাগদাদ শহরের এক ধার্মিক মেয়ে ছিল, মেয়েটি ছোট বেলা থেকেই নামাজ, রোজা, কোরআন তেলওয়াতে সব সময় ব্যস্ত থাকতো। এভাবে চলতে চলতে মেয়েটি এক সময় বড় হয়ে গেল। একদিন মেয়েটির মা-বাবা তার কাছে বিয়ের সম্মতি চাইল, সে রাজি হয়ে গেল। তার মা-বাবা একজন ধার্মিক পাত্র ঠিক করল। এরপর বিয়ের দিন ঠিক করা হল। যথারিতি বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। মেয়েটিকে কনের সাজে সাজানো হল।

এদিকে যোহরের আজান দিল, মেয়ে আসর থেকে উঠে নামাজ পরতে চলে গেল। আত্মীয় স্বজন সবাই বলতে লাগলো, আরে কি করছ? এক্ষনি বর যাত্রি এসে পড়বে, তোমার সাজ নষ্ট হয়ে যাবে, বর যাত্রি এই অবস্থায় দেখলে কি বলবে? মেয়ের জবাব, আমি আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না, আল্লাহ যা করবেন আমার মঙ্গলের জন্য করবেন। কে কি বলবে তার জন্য আমি আল্লাহর বিধান অমান্য করতে পারবো না।

অতঃপর মেয়েটি নামাজ পড়তে চলে গেল। বেশ কিছুক্ষন হয়ে গেল মেয়ে আসছেনা। অতঃপর মেয়ের মা নামাজের ঘরে মেয়েকে দেখতে গেল। মা দেখল মেয়ে এখনও সেজদায়। সেজদা থেকে উঠার বিলম্ব দেখে মা মেয়ের শরীরে হাত দিয়ে দেখল। মা হাত দিতে মেয়ে পরে গেল। বুঝতে বাকী নেই মেয়ে মৃত্যূ বরণ করেছে। ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

কি সুন্দর মৃত্যূ। আল্লাহর দরবার সেজদা অবস্থা মৃত্যূর চেয়ে উত্তম মৃত্যূ আর কি হতে পারে? নামাজ অবস্থায় মৃত্য বরণ করলে শহীদেরর মর্যাদা। সুন্দর এই গল্পটি ‘কোরআন হাদিসের শিক্ষা’ নামক বই থেকে নেয়া হয়েছে

সংগৃহীত : পি এন এস নিউজ ২৪

Comments

comments

SHARE