নবীজির (সা:) একজন ছোট্ট সাহাবী,
নাম তার
তালহা (রাদি:) । তালহা (রাদি:) এর
মৃত্যুসয্যায় ওনার
বাবা-মা বললো, তোমার মৃত্যু মনে হয় আজ
রাতেই
হয়ে যাবে, তাই বিশ্বনবীকে তোমার
খবরটা পৌছে
দেই,

তখন তালহা (রাদি:) বললেন: আমার
যদি আজ
রাতে মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে
বিশ্বনবীকে আপনারা
কোনো খবর দিয়েননা রাতে, তখন ওনার
বাবা-মা
অবাক হয়ে বললো: বিশ্বনবী তোমাকে
কতো
ভালোবাসে অথচ না করছো ওনাকে
জানাতে ! কি
কারনে জানতে চাওয়া হলে তালহা
(রাদি:) বলেন :
রাতে যদি আমার মৃত্যু হয়ে যায় আর
রাতেই যদি
নবীজি (সা:) আমার মৃত্যুর সংবাদ পান
তাহলে ওনি
আমায় দেখতে তখনি আজ রাতেই চলে
আসবেন, আর
ওনার বাড়ী থেকে আমাদের বাড়ীর
দূরত্ব প্রায় ৩
মাইল, পথিমধ্যে ইহুদিদের বসবাস, ওনি
রাস্তায়
আসার পথে যদি কোনো ইহুদি-
নাসারারা ওনার ওপর
হামলা করে বা একটা ঢিলও মারে ,
তাহলে আমার
কারনে যদি নবীজি (সা:) কোনো কষ্ট
পায় , তাহলে
আমি কাল হাশরের ময়দানে নবীজির
(সা:) সামনে
কিভাবে আমার এই মুখ দেখাবো ? তাই
আমি যদি
আজ রাতেই মারা যাই তাহলে দেরি
না করে
আমাকে দাফন করে দিবেন । সেই
রাতেই তালহা
(রাদি:) এর মউত হয়ে গেলো এবং অসিয়ত
অনুযায়ী
রাতেই দাফন করা হলো , এবং পরদিন
ফজরের
নামাজের পরে নবীজির কাছে এই
সংবাদ গেলো ,
তখন সমস্ত ঘটনা নবীজিকে (সা:) খুলে
বললেন, পরে
সাথে সাথেই নবীজি তালহা (রাদি:)
এর কবর দেখতে
গেলেন এবং কবরের পাশে গিয়ে
নবীজি (সা:)
আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন : ইয়া
আল্লাহ , আমি
শিশু তালহার উপর রাজী-খুশি, আপনিও
তালহার উপর
রাজী-খুশি হয়ে যান, এরপর নবীজি (সা:)
মুচকি হাসি
দিলেন । সাহাবীরা বললো: ইয়া
রাসুলুল্লাহ (সা:) ,
আপনার উপর আমার জান কুরবান হউক, মুচকি
হাসি
দেওয়ার কারন কি ? তখন নবীজি বলেন:
আমি
দেখতেছি এইমাত্র শিশু তালহার সাথে
আমার
আল্লাহর দিদার হয়ে গেলো ,
সবাই বলুন সোবহানাল্লাহ

একদিন রাতে ইহুদি মেহমানের সঙ্গে মহানবী (সা.) যা করেছিলেন

একদিন মদিনায় সন্ধ্যা নেমে এলো। মদিনা আলো-বাতাসে ছড়িয়ে পড়লো বেলালি সুর। মিনারের আল্লাহু ধ্বনি খেজুরের পাতা ছিড়ে পৌঁছে গেল ওলিতে গলিতে। সাহাবিরা মসজিদে। সেজদা-তাসবিহ-তেলাওয়াতে মগ্ন, নবীজী (সা.) তখন মসজিদে। এসময় দয়াল নবীর দরবারে এসে পৌঁছল একদল মুসাফির। সন্ধ্যার এর অবেলায় নবীজি মুসাফিরদের মেহমানদারির আয়োজন করলেন। সাহাবিদের বললেন, যাও মেহমানদের যথাসাধ্য আপ্যায়ন করো, ওরা আমাদের অতিথি। রাসুল নিজেও একজন অতিথি ঘরে নিয়ে গেলেন। আরবের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পাপের গন্ধ। পথিক মানেই ভয়-আতঙ্ক। লোটেরা-ডাকাত। সব ডর-ভয় উপেক্ষা করে দয়াল নবী অচেনা অজানা মেহমানদের আপ্যায়নে ব্যস্ত। রাসুল সা. এর ঘরে সেই অতিথি ছিলো ইহুদি। জেনে শোনেও নবীজি তাকে নিজ হাতে খাওয়ালেন।

ইহুদি বলে কথা। মুহাম্মদকে বিপদে ফেলাতে না পারলে আবার কেমন ইহুদি। সে মনে মনে ইচ্ছা করলো, ‘আজ আমি ঘরের সব খাবার একাই খাব’। ভাবনা ও কাজের মিল পাওয়া গেল। একেবারে পেট পুরে খেলো। নবীজি নিজেই তার বিছানা করলেন। ইহুদি মেহমান গা এলিয়ে দিল ঘুমাবের বিছানায়। গভীর রাত। নীরব নিস্তদ্ধ। ঘুম ভেঙে গেল অতিথির। একেতো মরু পথের দীর্ঘ ক্লান্তি, আবার খেয়েছেও গলা ভরে। এবার বাতরুমের প্রচন্ড চাপ। কিন্তু এতো রাতে, অজানা অচেনা জায়গায় কোথায় যাবে সে? এমন সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে বিছানা নষ্ট করে ফেলেছে আগন্তুক। এবার ভয় পেয়ে গেল ইহুদি, মুহাম্মদ সা. মদিনার স¤্রাট। তার ঘরে এমন অপকর্ম? লোকটি ভয়ে পালিয়ে গেলো। ছুটে পালাচ্ছে সে যেদিকে দুচোখ যায়। যদি মুহাম্মদের লোকেরা তাকে ধরে ফেলে – এমন ভয়ে ছুটছে প্রাণপণে।

এমনি সময় তার মনে হলো সে তলোয়ার ফেলে এসেছে মুহাম্মদরে ঘরে। সে সময় তলোয়ার ছাড়া ভ্রমণ কল্পনাই করা যায় না। কি করবে আগন্তুক? সিদ্ধান্ত নিল আবার মদিনায় যাবে, তলোয়ার ছাড়া একমুহুর্তও অসম্ভব। চুপিচুপি মুহাম্মদ সা.-এর ঘরে এসে ঢুকেছে ইহুদি। মনে বড় ভয়! কি জানি কি হয়! আরে! একি কি দেখছে সে? ইহুদি মেহমান নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না। রাসুল সা. নিজের হাতের লোকটির নষ্ট করে যাওয়া বিছানা ধুয়ে দিচ্ছেন। চেহারায় রাগের চিহ্ন নেই। রাসুল সা. তাকে দেখে ছুটে এসেছেন তার কাছে। তাকে বলতে লাগলেন, ও ভাই! আমার ভুল হয়ে গেছে, রাতে তোমার খোঁজ নিতে পারিনি, আমার জন্য তুমি অনেক কষ্ট করেছো। আমাকে মাফ করে দাও! ইহুদি ভাবতেও পারছে না এমনটা। মানুষ বুঝি এমন হয়। তাও রক্ত মাংসে গড়া মানুষ! মানবিক মানুষের উপমা। ইহুদি মেহমান এবার মাথা নুইয়ে দিলেন নবীজির কাছে। সমকণ্ঠে উচ্চারন করলেন, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইলাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ। ওগো আল্লাহর নবী-আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি; আল্লাহ এক-আপনি আল্লাহর রাসুল। সূত্র : বায়হাকি

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী স্ত্রী সহবাসের সঠিক নিয়ম

স্ত্রীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দান করার পূর্বে বিচ্ছিন্ন না হওয়া……

আল্লাহ তাআলা বিবাহের মাধ্যমে নারী-পুরুষের যৌন সম্ভোগ তথা বংশ বৃদ্ধিকে কল্যাণের কাজে পরিণত করেছেন। বিবাহের ফলে স্বামী-স্ত্রীর যাবতীয় বৈধ কার্যক্রম হয়ে ওঠে কল্যাণ ও ছাওয়াবের কাজ। বংশবৃদ্ধির একমাত্র মাধ্যমে হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস। এর রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি। পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

স্ত্রী সহবাসের রয়েছে কতিপয় নিয়ম-
০১. স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকবে।
০২. “বিসমিল্লাহ” বলে সহবাস শুরু করা মুস্তাহাব। ভুলে গেলে যদি বীর্যপাতের পূর্বে স্মরণ হয় তাহলে মনে মনে পড়ে নিতে হবে।

০৩. সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করা। যা আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত।

০৪. সব ধরনের দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস পরিহার করা। উল্লেখ্য যে, ধূমপান কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে কামভাব কমে যায়। আগ্রহের স্থান দখল করে নেয় বিতৃষ্ণা।

০৫. কেবলামুখি হয়ে সহবাস না করা।

০৬. একেবারে উলঙ্গ না হওয়া।

০৭. স্ত্রীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দান করার পূর্বে বিচ্ছিন্ন না হওয়া।

০৮. বীর্যপাতের সময় মনে মনে নির্ধারিত দোয়া পড়া। কেন না যদি সে সহবাসে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে সন্তান শয়তানের প্রভাব মুক্ত থাকবে।

০৯. স্ত্রীর হায়েজ-নেফাসের (ঋতুকালীন) সময় সহবাস না করা।

১০. চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে মিলিত না হওয়া।

১১. স্ত্রীর জরায়ুর দিকে চেয়ে সহবাস না করা।

১২. বিদেশে বা সফরে যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস না করা।

১৩. সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা না বলা।

১৪. জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস না করা।

১৫. ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস না করা।

১৬. উল্টাভাবে স্ত্রী সহবাস না করা।

১৭. স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস না করা।

কুরআন-হাদিস মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।

Comments

comments

SHARE