সেদিন মহানবী (সা) এর পীড়ার তীব্রতা খুবই বৃদ্ধি পেল। রোগ যন্ত্রণায় তিনি অস্থির।
কিন্তু এর মধ্যেও তাঁর কথাগুলো মানুষকে জানাবার জন্য ব্যস্ত। তিনি সেখানে উপস্থিত নর-নারীদের উদ্দেশ্য করে বললেন,

“তোমাদের আগের জাতিগুলো তাদের পরলোকগত নবী ও বুজুর্গদের কবরগুলো উপাসনালয়ে পরিণত করেছে। সাবধান! তোমরা যেন এই মহাপাপে নিজেদের লিপ্ত করো না। খৃষ্টান ও ইহুদীরা এই পাপে অভিশপ্ত হয়েছে। দেখ, আমি নিষেধ করছি আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমি তোমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করে যাচ্ছি, সাবধান আমার কবরকে সিজদাগাহ বানাবে না। আমার এই চরম অনুরোধ অমান্য করলে তজ্জন্যে তোমরাই আল্লাহর নিকট দায়ী হবে। হে আল্লাহ, আমার কবরকে ‘পূজাস্থলে’ পরিণত করতে দিয়ো না।”

 

আর একদিনের কথা।

অসুস্থ মহানবী (সা) মসজিদের মিম্বরে আরোহণ করলেন। সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “আল্লাহ তাঁর একজন দাসকে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ দান করলেন। কিন্তু সে দাস তা গ্রহণ না করে আল্লাহকে গ্রহণ করলো।”

এই কথা শুনে আবুবকর (রা) কাঁদতে শুরু করলেন।

আবুবকর (রা) এর কান্না দেখে অনেকে বলাবলি করতে লাগলো, বৃদ্ধের হঠাৎ আজ কী হলো! আল্লাহর নবী একজন লোকের গল্প বলছেন, আর উনি কেঁদে আকুল হচ্ছেন।

এ যে ছিল মহানবী (সা)-এর আশু বিদায়ের ইঙ্গিত, তা অনেকেই বুঝতে পারেননি।

.

সূত্র – আমরা সেই সে জাতি : আবুল আসাদ

মসজিদে জুতা চুরি করতো এক চোর

মসজিদে জুতা চুরি করে এক চোর।
কিন্তু একদিন সে ঘোষনা শোনলো
যে তাকবীর ওয়ালার সাথে ৪০ দিন
৫ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহর খুশির জন্য
মনোযোগ দিয়ে পড়বে তার কাছে
বাদশা তার একমাএ মেয়ে বিয়ে দিবে।
তাই, জুতা চোর, জুতা চুরি বাদ দিয়ে
এখন প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ সুন্দর
করে আদায় শুরু করে। এ ভাবে
চলতে চলতে বাদশা ৩৯ দিন খবর নিয়ে
জানতে পারলো জুতা চোর যুবকটিই
একটানা ৩৯ দিন এক টানা ৫ ওয়াক্ত
নামাজ
সময়মত আদায় করেছে। তাই বাদশা
আগামিকাল এসে তাকে রাজ দরবারে
এসে,
বাদশার মেয়েকে বিয়ে করতে বলে।

কিন্তু, যুবকের ৪০ দিন, ৪১, ৪২ দিন যায়
কিন্তু সে আর আসেনা। বাদশা তালাশ
করতে করতে যুবককে খুজে বলতে
লাগলো – “তোমাকে জোর করে বিয়ে
করতে বলছিনা, কেন আসলেনা তুমি ‘
‘ যুবক বলতে লাগলো : “ও, বাদশা :
আপনি জানেননা ! আমি ভাল
মানুষ নই, জুতা চোর! বাদশা বলে :তবুও
আমি তোমার কাছেই মেয়ে বিয়ে দিব!
এবার, যুবকের চোখ হতে পানি টপ টপ
করে পড়ছে। সে বলতে শুরু করে :৪০ দিনের
দিনও আমি রাজকুমারি আর রাজ্য হাসিল
করার স্বপ্ন দেখছি কিন্তু বাদশা, ৪০ তম
দিনের শেষ নামাজের শেষ রাকাতের
শেষ সেজদায় আমি যেন জান্নাতের
প্রশান্তি
পেতে শুরু করলাম।আমার হৃদয়
প্রশান্তিতে
ভরে গেছে, জীবনের সব খুশি ভুলে
গেলাম।
আমার দয়াময় আল্লাহ যেন ভালবাসা
ভরে দিয়েছে।। আমার হৃদয় পাল্টিয়ে
গেছে।
আজ আমি নারী চাই না, রাজ্য চাইনা,
চাই শুধু নামাজের সেজদার সেই
জান্নাতি প্রশান্তি……..”
ঠিক তেমনি মহান আল্লাহ তায়ালার
রাজি খুশি
উদ্যেশে যদি আমরা নামায, রোজা, হজ্জ,
যাকাত আদাই করি, তাহলে আল্লাহ
আমাদের
অনেক এরকম অজানা নেয়ামত দান
করবেন।
সংগ্রহিত
★মহান আল্লাহ আমাকে এবং সবাইকে
পাচ
ওয়াক্ত নামাজ সহীহ ভাবে আদায় করার
তৌফিক দান করুন।

মেয়েদের স্বপ্নদোষ হলে কি ফরজ গোসল করতে হবে?

রাসূল (সাঃ) বললেন, হ্যাঁ, যদি সে বীর্যের পানি দেখতে পায়, তবে অবশ্যই যেনো সে গোসল করে নেয়।
ইমাম আবু ঈসা তিরমিজি [রহঃ] বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ। বিখ্যাত হাদিসবেত্তা তাবেয়ী ইবনে আবু ওমর [রহঃ] হাদিস বর্ণনা করেছেন, হজরত উম্মে সালমা থেকে বর্ণিত আছে যে, উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহান একদিন রাসূল [সাঃ] এর কাছে এসে আরজ করলো- হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ), আল্লাহ তো সত্যের ব্যাপারে কোনো লজ্জা করেন না। পুরুষদের মতো যদি কোনো নারীর স্বপ্নদোষ হয় তাহলে সেই নারীর ওপরও কি কোনো কিছু ফরজ হবে?অর্থাৎ তারও কি ফরজ গোসল করতে হবে? রাসূল [সাঃ] বললেন, হ্যাঁ, যদি সে বীর্যের পানি দেখতে পায়, তবে অবশ্যই যেনো সে গোসল করে নেয়। ইমাম আবু ঈসা তিরমিজি [রহঃ] বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ।

সাধারণভাবে সকল ফকিহ ও ইসলামি আইনজ্ঞের অভিমত হলো, কোনো নারীর যদি পুরুষেদের মতো স্বপ্নদোষ হয় এবং তাতে বীর্যপাত হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই গোসল করতে হবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২২] [মাওলানা মনযূরুল হক]

Comments

comments

SHARE