➜➜ আমাদের নবীজি (সা.) বিশ্বনবী। শুধু মানুষের নবী নন, জ্বিনেরও নবী। সবার নবী। তিনি সবার জন্যে হেদায়াত নিয়ে এসেছেন। আলো নিয়ে এসেছেন। হক নিয়ে এসেছেন:
= আমি আপনাকে পুরো বিশ্বের জন্যে রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি (আম্বিয়া:১০৭)।
= মহিমান্বিত ঐ সত্ত্বা যিনি ‘ফুরকান’ নাযিল করেছেন তার বান্দার ওপর। যেন তিনি বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হতে পারেন (ফুরকান: ১)।

(দুই) দাওয়াত গ্রহন
✒ জ্বিনেরও নবীজির দাওয়াত গ্রহণ করেছে:
= আপনি বলুন, আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে: জ্বিনদের একটি দল কুরআন শুনেছে, তারপর তারা বলেছে: আমরা বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি। যা সৎপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করব না (সূরাতুল জ্বিন: ১-২)।
= যখন আমি একদল জ্বিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা কুরআন পাঠ শুনছিল। তারা যখন কুরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হলো, তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারীরূপে ফিরে গেলো।
তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়, আমরা এমন এক কিতবা শুনেছি, যা মুসার পর অবতীর্ণ হয়েছে। এ কিতাব পূর্ববর্তী সব কিতাবের প্রত্যয়ন করে, সত্যধর্ম ও সরলপথের দিকে পরিচালিত করে
হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর কথা মান্য করো এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। তিনি তোমাদের গুনাহ মাফ করবেন (আহকাফ: ২৯-৩১)।

(তিন) পাঠক নবী, শ্রোতা জ্বিন!
✒ আলকামা প্রশ্ন করেছিলেন ইবনে মাসউদ রা.কে:
-আপনাদের কেউ কি জিনের সাথে সাক্ষাত হওয়ার রাতে নবীজির সাথে ছিলেন?
-জ্বি না। সে রাতে ছিলাম না। তবে একরাতে আমরা নবীজির সাথে ছিলাম। তাকে হারিয়ে ফেললাম। সবাই নবীজিকে খুঁজতে শুরু করে দিলাম। উপত্যকায় খুঁজলাম। গিরিপথে খুঁজলাম। কোথাও পেলাম না। আমরা বলতে শুরু করলাম: তাকে হয় কোথাও উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে না হয় মেরে ফেলা হয়েছে।
রাতটা যে কিভাবে আমাদের কেটেছে, বলে বোঝানো যাবে না। উদ্বেগে দুশ্চিন্তায় আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। ভোরের দিকে দেখি নবীজি হেরার দিক থেকে হেঁটে আসছেন।
-ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি পুরোটা রাত কোথায় ছিলেন? এদিকে আমরা খুঁজে খুঁজে হয়রান! এমন উদ্বেগজনক রাত আমাদের আর অতীতে যায়নি!
-আমাকে একটা জ্বিন ডাকতে এসেছিল। তার সাথেই গিয়েছিলাম। তাদেরকে কুরআন শুনিয়ে এলাম!

এরপর নবীজি আমাদেরকে সাথে করে নিয়ে গেলেন। জ্বিনদের বিভিন্ন নিদর্শন দেখালেন। তাদের আগুনের চিহ্ন দেখালেন।
-জ্বিনেরা কী খায়?
-তারা তোমাদের ফেলে দেয়া পশুর হাড় খায়। গোবর খায়। তোমরা গোবর ও হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করো না। ঢিলা-কুলুফ হিশেবে ব্যবহার করো না। কারণ এ-দুটো তোমাদের জ্বিন ভাইদের খাদ্য! (মুসলিম: ৪৫০)।

(চার) কুরআন-শ্রবণ
✒ নবীজি জ্বিনদের প্রশংসা করেছেন। তারা খুবই মনোযোগের সাথে কুরআন কারীম শ্রবণ করে। জাবের রা. বলেছেন:
-একবার নবীজি সাহাবাদের কাছে এলেন। সূরা রহমান তিলাওয়াত করে শোনালেন। আগাগোড়া। সবাই চুপটি করে শুনলো। নবীজি বললেন:
= আমি সূরাটা জ্বিনদেরকেও তিলাওয়াত করে শুনিয়েছিলাম সেই রাতে। তারা তোমাদের চেয়ে ভালো শ্রোতা ছিল। তারা খুবই সুন্দর প্রত্যুত্তর দিয়েছে। আমি যতবার তিলাওয়াত করেছি:
فَبِأيِّ آلاءِ رَبِّكُما تُكَذِّبانِ
তোমরা তোমাদের প্রতিফালকের কোন কোনও নেয়ামত অস্বীকার করবে?
প্রত্যেকবারই জ্বিনেরা বলে উঠেছে:
= হে আমাদের রব! আপনার কোনও নেয়ামতকেই আমরা অস্বীকার করি না। আপনার জন্যেই সমস্ত প্রশংসা! (তিরমিযী)
.
(পাঁচ) খাবারের চিন্তা!
✒ নবীজি শুধু মানুষ নিয়ে ভাবতেন এমন নয়। জ্বিনদের নিয়েও ভাবতেন। তাদের খাবারের সংস্থান নিয়ে ভাবতেন। আবু হুরাইরা রা. বলেছেন:
-আমি নবীজির সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন:
-আমার জন্যে কয়েকটা পাথর নিয়ে এসো। কুলুফ হিশেবে ব্যবহার করবো। দেখো আবার হাড় বা পশুর বিষ্ঠা নিয়ে এসো না!
আমি পাথর এনে দিলাম। কৌতূহলবশত জানতে চাইলাম:
-হাড় আর বিষ্ঠা হলে কী সমস্যা?
-এ দু’টি হলো জ্বিনের খাবার। আমার কাছে জিনের প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা আমার কাছে তাদের জন্যে পাথেয় চেয়েছিল। আমি আল্লাহর কাছে তাদের জন্যে দু‘আ করেছি! যেন হাড় ও গোবরকে তাদের জন্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে দান ব্যবস্থা করে দেন ! (বুখারী)।

ভাল মৃত্যুর আলামত সমূহ

১. “যে ব্যক্তির সর্বশেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন।” [আবু দাউদ, ৩১১৬]
২. “মুমিন কপালের ঘাম নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে।” [আহমাদ (২২৫১৩), তিরমিযি (৯৮০), নাসায়ি (১৮২৮)
৩. “যে ব্যক্তি জুমার দিনে বা রাতে মৃত্যুবরণ করেন আল্লাহ তাকে কবরের আযাব থেকে নাজাত দেন।” [আহমাদ (৬৫৪৬), তিরমিযি (১০৭৪)
৪. “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয় সে শহিদ ” [মুসলিম, ১৯১৫] ৫
“পাঁচ ধরনের মৃত্যু শাহাদাত হিসেবে গণ্য।
প্লেগ রোগে মৃত্যু,
পেটের পীড়ায় মৃত্যু,
পানিতে ডুবে মৃত্যু, কোন কিছু ধ্বসে পড়ে মৃত্যু এবং
আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হওয়া।” [বুখারি (২৮২৯), মুসলিম (১৯১৫)]

৫.“যে নারী জুমা (বাচ্চা) নিয়ে মারা যায় তিনি শহিদ।”। [আবু দাউদ (৩১১১)] “যে নারী তার গর্ভস্থিত সন্তানের কারণে মারা যায় তিনি শহিদ। সে নারীকে তার সন্তান সুরার (নাভিরজ্জু) ধরে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে।” [‘জানায়িয’ (৩৯) ]
৬. “একদিন, একরাত পাহারা দেয়া একমাস দিনে রোজা রাখা ও রাতে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর যদি পাহারারত অবস্থায় সে ব্যক্তি মারা যায় তাহলে তার জীবদ্দশায় সে যে আমলগুলো করত সেগুলোর সওয়াব তার জন্য চলমান থাকবে, তার রিযিকও চলমান থাকবে এবং কবরের ফিতনা থেকে সে মুক্ত থাকবে।” [মুসলিম (১৯১৩)]
৭. “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল এবং এ অবস্থায় তার মৃত্যু হলো সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি কোন একটি সদকা করল এবং এ অবস্থায় তার মৃত্যু হলো সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমাদ (২২৮১৩)

অভিশপ্ত রমনীদের পরিচয় ইসলামের আলোকে

(১) যারা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে দেহে উল্কি (সুচিবিদ্ধ করে চিএ অংকন) করে বা অন্যের মাধ্যমে করিয়ে নেয়।
(২) যে নারী পর্দা করে না, বেপর্দা হয়ে চলাফেরা করে।

(৩) যারা আল্লাহর দেওয়া সৌন্দর্য, ভ্রু উপরিয়ে চিকন করে নিজেরা সৌন্দর্য তৈরি করে।
(৪) যে নারী পরচুলা লাগায়। (বুখারীঃ ৪৮৮৬)
(৫) যে নারী দাত সমূহ কে শনিত ও সরু বানায় (সহীহ বুখারীঃ ৪৮৮৭)
(৬) যে নারী পুরুষের বেশ ধারন করে, পুরষের মতো চলা ফেরা করে, পুরুষের পোশাক আশাক পরে ঘুরে বেড়ায় (বুখারীঃ ৪৪২৯)

এই সমস্ত নারীদের প্রতি লানত করা হইছে। সুতরাং হে বোন সাবধান উপরোক্ত কাজ গুলো থেকে। ভয় করো সেই দিনের, যেই দিন তোমার রুপ, সৌন্দর্য তোমার কোন কাজেই আসবে না। স্মরণ কর সেই অন্ধকার কবরকে, যেখানে তোমাকে একাই যেতে হবে…।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “বাল তু’সিরুনাল হায়াতাদ-দুনিয়া, ওয়াল আখিরাতু খায়রুও-ওয়া আবক্বা।” অর্থঃ বরং তোমরা পার্থিব জীবনকেই বেশি প্রাধান্য দাও, অথচ পরকালের জীবন হচ্ছে চিরস্থায়ী। (সুরা আল-আ’লা) আল্লাহ আমাদের সকলকে মুসলিমাকে সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে ১০০% মুক্ত থাকার তৌফিক দান করুক।
আমিন

ইসলাম তার শিক্ষা ও আদর্শের মাধ্যমে মানব প্রকৃতিকে- যা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন- সমর্থন ও শক্তিশালী করে। আল্লাহ তা’আলা মানুষকে দ্ব্যর্থহীন কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে নারী-পুরুষ দুই শ্রেণীতে সৃষ্টি করেছেন। এরা যাতে একে অপরের সম্পূরক হয়। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ ঠিক রাত-দিনের মতো। যে দুয়ের সমন্বয়ে হয় একটি দিন। কিংবা বলা যায় ইতি ও নেতিবাচক স্রোত তথা জোয়ার-ভাটার মতো, যে দুইয়ের যোগে গঠিত হয় বিদু্ৎ-শক্তি। এ বিদু্ৎ-শক্তি সঞ্চার করে বহু জড় পদার্থে প্রাণ ও প্রাণস্পন্দন।

আল্লাহ তা‘আলা নারীকে যেসব অনন্য বৈশিষ্ট্যে শোভিত করেছেন, তার অন্যতম হলো আচার-আচরণে আহ্লাদের প্রাচুর্য ও আবেগের বাহুল্য। তেমনি গঠন-প্রকৃতিতেও নারী কোমলতা ও এমন নম্রতায় সমুজ্জ্বল, যা পুরুষের সঙ্গে বসবাসরত পরিবেশে তার স্বাধীনতাকে করে সীমাবদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা নারীকে স্বভাব-চরিত্রেও বানিয়েছেন কোমল। যাতে সে শুষে নিতে পারে পুরুষের যাবতীয় রুক্ষতা। কেড়ে নিতে পারে তার হৃদয়-অন্তর। নারীর সান্বিধ্য পুরুষকে দেয় মানসিক আশ্রয়। যেখানে এলে তার টেনশন-অস্থিরতা লঘু হয়। কেটে যায় সব ক্লান্তি ও বিস্বাদ। একইভাবে সে যাতে হয় মমতাময়ী এবং শিশুর লালন-পালনে উপযুক্ত।

Comments

comments

SHARE