এক লোকের ২৫ টি প্রশ্ন আর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উত্তরঃ

১. প্রশ্নঃ আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচার উপায় কি?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, মানুষের উপর রাগান্বিত হওয়া পরিহার কর।
২. প্রশ্নঃ আমি সবচেয়ে বড় আলেম (ইসলামী জ্ঞানের অধিকারী) হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, তাক্বওয়া (আল্লাহ্ ভীরুতা) অবলম্বন কর, আলেম হয়ে যাবে।
৩. প্রশ্নঃ সম্মানী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সৃষ্টির কাছে চাওয়া বন্ধ কর; সম্মানী হয়ে যাবে।
৪. প্রশ্নঃ ভাল মানুষ হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, মানুষের উপকার কর।
৫. প্রশ্নঃ ন্যায়পরায়ণ হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যা নিজের জন্য পছন্দ কর; তা অন্যের জন্যেও পছন্দ কর।
৬. প্রশ্নঃ শক্তিশালী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, আল্লাহর উপর ভরসা কর।
৭. প্রশ্নঃ আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদার অধিকরী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, বেশী বেশী আল্লাহকে স্মরণ (জিকির) কর।

৮. প্রশ্নঃ রিযিকের প্রশস্ততা চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সর্বদা অযু অবস্থায় থাকো।
৯. প্রশ্নঃ আল্লাহর কাছে সমস্ত দোয়া কবুলের আশা করি!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, হারাম খাবার হতে বিরত থাকো।
১০. প্রশ্নঃ ঈমানে পূর্ণতা কামনা করি!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, চরিত্রবান হও ৷
১১. প্রশ্নঃ কেয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে গুনামুক্ত হয়ে সাক্ষাৎ করতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, জানাবত তথা গোসল ফরজ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে নাও।
১২. প্রশ্নঃ গুনাহ্ কিভাবে কমে যাবে?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, বেশী বেশী ইস্তেগফার (আল্লাহর নিকট কৃত গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা) কর।
১৩. প্রশ্নঃ কেয়ামত দিবসে আলোতে থাকতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, জুলুম করা ছেড়ে দাও।
১৪. প্রশ্নঃ আল্লাহ্ তা’য়ালার অনুগ্রহ কামনা করি!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, আল্লাহর বান্দাদের উপর দয়া-অনুগ্রহ কর।
১৫. প্রশ্নঃ আমি চাই আল্লাহ্ তা’য়ালা আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখ।
১৬. প্রশ্নঃ অপমানিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে চাই ?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যিনা (ব্যভিচার) থেকে বেঁচে থাকো।
১৭. প্রশ্নঃ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এর নিকট প্রিয় হতে চাই ?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) এর নিকট পছন্দনীয় তা নিজের জন্য প্রিয় বানিয়ে নাও।
১৮. প্রশ্নঃ আল্লাহর একান্ত অনুগত হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, ফরজ সমূহকে গুরুত্বের সহিত আদায় কর।

১৯. প্রশ্নঃ ইহ্সান সম্পাদনকারী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, এমন ভাবে আল্লাহর এবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ অথবা তিনি তোমাকে দেখছেন।
২০. প্রশ্নঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! (সাঃ) কোন বস্তু গুনাহ্ মাফে সহায়তা করবে?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন,
ক) কান্না। (আল্লাহর নিকট, কৃত গুনাহের জন্য)
খ) বিনয়।
গ) অসুস্থতা।
২১. প্রশ্নঃ কোন জিনিষ দোযখের ভয়াবহ আগুনকে শীতল করবে?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, দুনিয়ার মুছিবত সমূহ।
২২. প্রশ্নঃ কোন কাজ আল্লাহর ক্রোধ ঠান্ডা করবে?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, গোপন দান এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।
২৩. প্রশ্নঃ সবচাইতে নিকৃষ্ট কি?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, দুশ্চরিত্র এবং কৃপণতা।
২৪. প্রশ্নঃ সবচাইতে উৎকৃষ্ট কি?
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সচ্চরিত্র, বিনয় এবং ধৈর্য্য।
২৫. প্রশ্নঃ আমি ধনী হতে চাই!
উঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, অল্পতুষ্টি অবলম্বন কর; ধনী হয়ে যাবে।

এক বৃদ্ধা এবং তার স্বামী

একদিন গরম কালে, এক বৃদ্ধা এবং তার স্বামী একসাথে হেটে যাচ্ছিলেন। কিছুদুর যাবার পর বৃদ্ধার হঠাৎ পানির তৃষ্ণা পেল। তিনি সেই জায়গায় বসে পড়লেন এবং স্বামীকে বললেন একটু পানির ব্যবস্তা করার জন্য। স্বামী সাথে সাথে পানি আনতে চলে গেলো ।

কিছু দূর যাবার পর তিনি একটি ছোটপুকুর দেখতে পেলেন, কিন্তু সেখানে মানুষ গোসল করছিল বলে সেখানকার পানি কাদামাটিতে একেবারে ঘোল যা পান করার মোটেও উপযোক্ত নয়।এই দিকে তার স্ত্রী তৃশ্নায় কাতর হয়ে আছে। স্বামী আরো অনেক জায়গায় পানির তালাশ করে ব্যার্থ হয়ে, মন খারাপ করে স্ত্রীর কাছে ফিরে আসল। স্ত্রী স্বামীর মলিন চেহরার দিখে দেখে বুঝতে পারলেন,যে তার স্বামী চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। তখন স্ত্রী বললেন, এত নিরাশ হয়োনা, একটু ধৈর্য্য ধর, আমাদের কষ্ট দেখর মত আশেপাশে কেউ না থাকলেও, আমাদের হাজারো অপরাদের মাঝেও দয়াকারি,সেই দয়াময় আল্লাহ তো আমাদের সাথেই আছেন, হয়ত আল্লাহ তা’য়ালা তৃষ্নার কষ্টের মাধ্যমে আমাদের একটু ধৈর্যের পরিক্ষা নিচ্ছেন। স্বামীকে এইসব কথা বলতে বলতে, স্বামী বললেন,একটু দাড়াও, আমি আরেকবার দেখে আসি,কোন ব্যবস্তা করা যায়কিনা।এই বলে স্বামী আবার পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখলেন সেখানে এখন আর কেউ নেয়। এখনকার পানি একেবারেই পরিষ্কার। তৎক্ষণাৎ তিনি তখন স্ত্রীর জন্য পানি আনলেন। পানিটুকু পান করার পর স্ত্রী বললেন, “একটু যদি ধৈর্য ধরো তবে সকল ব্যাপারেই এমন পরিষ্কার কিছু দেখতে পাবে!” এবারে তিনি পানির দিকে লক্ষ্য করে স্বামীকে বললেন, “কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম বলেই পরিষ্কার পানি পাওয়া গেছে।

এখানে পানির কোনও পরিবর্তন হয়নি। যেই পানি তুমি দেখে এসেছিলে সেই পানিই তুমি এনেছো। তবে শুধু পার্থক্যহল পানির গুনটা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। জীবন আছেই যখন সমস্যা তো থাকবেই। যে কোন কারন বশত মন খারাপ হতেই পারে। আর তা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে একটু ধৈর্য ধরলে নিরব চিত্তে ভাবলে, অচিরেই মনের অস্থিরতা দূর হয়ে যাবে আর তখন ধীরেধীরে সব কিছুই পরিষ্কার দেখতে পাবেন। জীবন তো একটাই, একটাই তার সুযোগ। যার যার সুখ তারতার কাছেই। আপনার সুখ কখনোই অন্যের হাতে না।

জান্নাতের হুরেরা কেমন হবে

জান্নাতে হুর-গেলমানের বিষয়টি ইসলামে স্বীকৃত। তাদের দৈহিক আকার আকৃতি নিয়ে নানা মত রয়েছে। তবে অধিকাংশ সহীহ বর্ণনা মতে, হুর হবে নিম্নরূপ:

১) জান্নাতের অন্যান্য নিয়ামতের ন্যায় হুরে ঈনও একটি নিয়ামত হবে।
২) কোন কোন হুরে ইন ইয়াকুত ও মুক্তার ন্যায় লাল হবে।
৩) অতুলনীয় সুন্দরী সাথে সাথে হুরে ইনরা সতীত্ব ও লজ্জাশীলতায়ও নিজেরা নিজেদের তুলনীয় হবে।
৪) মানব হুরদেরকে ইতিপূর্বে অন্য কোন মানুষ স্পর্শ করেনি। জ্বিন হুরদেরকেও্ ইতিপুর্বে কোন জ্বীন স্পর্শ করেনি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তথায় থাকবে আয়তনয়না রমণীগণ। কোন জ্বীন ও মানব পূর্বে যাদেরকে স্পর্শ করেনি। অতএব উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? প্রবাল ও পরাগ সদৃশ নারীগণ। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? (সূরা আর-রহমান-৫৫/৫৬-৫৯)
৫) হুরেরা এতটা লজ্জাশীল হবে যে, স্বামী ব্যতিত আর কারো দিকে চোখ তুলে তাকাবে না।
৬) হুরেরা ডিমের ভিতর লুক্কায়িত পাতলা চামড়ার চেয়েও অধিক নরম হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তাদের নিকট থাকবে আয়তলোচনা তরুণীগণ যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। (সূরা সাফফাত ৩৭/৪৮-৪৯)
৭) জান্নাতের হুরেরা সুন্দর লাজুক চোখ বিশিষ্ট, মোতির ন্যায় সাদা এবং তাদের স্বচ্ছতা ও রং এত নিখুঁত হবে যেন সংরক্ষিত স্বর্ণালংকার। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তথায় থাকবে আয়তনয়না হুরগণ। আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়, তারা যা কিছু করত তার পুরস্কারস্বরূপ।’ (সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬/২২-২৪)
৮) হুরদের সাথে জান্নাতি পুরুষদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিয়ে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাদেরকে বলা হবে তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর। তারা শ্রেণীবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আমি তাদেরকে আয়তলোচনা হুরদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দিব।’ (সূরা তূর ৫২/১৯-২০)
৯) হুরেরা তাদের স্বামীর সমবয়সী হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাদের নিকট থাকবে আয়তনয়না সমবয়স্কা নারীগণ। তোমাদের এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে বিচার দিবসের জন্য।’ (সূরা ছোয়াদ ৩৮/৫২-৫৩)
১০) জান্নাতে স্বীয় স্বামীদের আনন্দ দানে হুরদের সঙ্গীত। আনাস (রা:) থেকে বর্নিত। রসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, ‘জান্নাতে আকর্ষণীয় চক্ষুবিশিষ্ট হুরেরা সঙ্গীত পরিবেশন করবে এ বলে: আমরা সুন্দর এবং সতী ও সৎচরিত্রের অধিকারিনী হুর। আমরা আমাদের স্বামীদের অপেক্ষায় অপেক্ষমান ছিলাম। (ত্বাবারানী, হাদিস নং-১৫৯৮)।
১১) ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের হুরদেরকে আল্লাহ বাছাই করে রেখেছেন। মোয়াজ বিন জাবাল (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ‘যখন কোন মহিলা তার স্বামীকে কোন কষ্ট দেয়, তখন আয়তনয়না হুরদের মধ্য থেকে মুমিন স্ত্রী বলবে যে, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন, তাকে কষ্ট দিও না। সে অল্প দিনের জন্য তোমার নিকট আছে অতি শীঘ্রই সে তোমাদেরকে ছেড়ে চলে আসবে।’ (ইবনে মাযাহ, আলবানী, ১ম খণ্ড, হা: নং১৬৩৭
বুরাইদা (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ‘আমি জান্নাতে প্রবেশ করার সময় এক যুবতী আমাকে অভ্যর্থনা জানাল, আমি তাকে বললাম, তুমি কার? সে বলল, আমি যায়েদ বিন হারেসার জন্য।’ (ইবনে আসাকের. সহীহ আল-জামে সগীর. আলবানী. হা: নং-৩৬১)
সূত্র: ‘জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা’ মুহাম্মদ ইকবাল কিলানি রচিত, তাওহীদ পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত।

Comments

comments

SHARE