হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম, জান্নাতে প্রবেশ করেছি। সেখানে কোন পাঠকের পড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তারা (ফেরেশতা) বললেন,-ইনি হারেছা ইবনে নোমান। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমনই হয় সেবা ও সদাচারের প্রতিদান, এমনই হয় সেবা ও সদাচারের বিনিময়। তিনি ছিলেন তার মায়ের প্রতি সর্বাধিক সদ্ব্যবহারকারী। মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৫১৮২; সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস : ৮২৩৩; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৭০১৪.

সাহাবী সম্পর্কে কিছু কথা
হযরত হারেছা ইবনে নোমান রা. ছিলেন একজন বিশিষ্ট আনসারী সাহাবী। বিখ্যাত আনসারী গোত্র ‘বনু নাজ্জার’-এ তার জন্ম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বদর, উহুদ, খন্দকসহ সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি অনেক গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।হযরত হারেছা ইবনে নোমান রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তাঁর নিকট একজন ব্যক্তি উপবিষ্ট ছিলেন। আমি তাকে সালাম দিলাম। যখন আমি ফিরে আসছি তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সাথে যিনি বসা ছিলেন, তাকে কি তুমি দেখেছ? আমি বললাম, জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেন, তিনি হলেন জিবরাঈল, তিনি তোমার সালামের উত্তর দিয়েছেন।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩৬৭৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ২০৪৫৪।
ইবনে শাহীনের বর্ণনায় রয়েছে, হারেছা ইবনে নোমান নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এলেন। তিনি তখন এক ব্যক্তির সাথে সংগোপনে কথা বলেছিলেন। তাই হারেছা রা. সালাম না দিয়ে বসে গেলেন। হযরত জিবরাঈল আ. তখন বললেন, তিনি সালাম দিলে আমি তাঁর সালামের উত্তর দিতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরাঈল আ.কে বললেন , আপনি কি তাকে চিনেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হুনাইনের যুদ্ধে পরম ধৈর্য্যের সাথে যে আশিজন যুদ্ধক্ষেত্রে অবিচল ছিলেন তিনি তাদের একজন। তাদেরকে ও তাদের সন্তানদেরকে জান্নাতের রিযিক প্রদান করা হবে।-আল-ইসাবা ১/৩৪০

ইবনে সা’দ উল্লেখ করেছেন, হযরত আবু জাফর রা. বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রা.-এর ঘরে অতিথি হলেন। যখন হযরত আলী রা.-এর সাথে হযরত ফাতেমা রা. কে বিবাহ দিলেন, তখন তিনি তাকে (আলী রা.) বললেন, একটি ঘর তালাশ করো, সেখানেই তোমাদের বাসর করো। তারপর তিনি হযরত ফাতেমা রা.-এর নিকট আসলেন। তিনি তাকে বললেন, আপনি এ ব্যাপারে হারেছা ইবনে নোমানের সাথে কথা বলেন। প্রতিউত্তরে হযরত আলী রা. বলেন, সে তো অন্য রকম হয়ে গেছে, এ কারণে তার সাথে কথা বলতে লজ্জাবোধ করছি। এ সংবাদ হযরত হারেছা ইবনে নোমানের কানে পৌঁছলে, তিনি রাসূলের দরবারে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম, ফাতেমা রা. যে ঘর গ্রহণ করবেন তা আমার নিকট অধিক প্রিয়, যেটা পরিত্যাগ করবেন সেটার চেয়ে। তিনি বললেন, তুমি সত্য বলেছো। আল্লাহ তাআলা তোমার মধ্যে বরকত দান করুন। অতঃপর হারেছা ইবনে নোমান তাঁর একটি ঘর ছেড়ে দিলেন। সেখানেই হযরত আলী রা. হযরত ফাতেমা রা. কে নিয়ে বসবাস করেন।
শেষ বয়সে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, তাই ঘরের দরজা থেকে মসজিদ পর্যন্ত একটা রশি বেঁধে রাখেন, যার সাহায্যে মসজিদে যাতায়াত করতেন। কোন গরীব-মিসকিন এলে তিনি তার থলে থেকে কিছু বের করতেন। তারপর রশি ধরে ধরে গিয়ে তার হাতে দিয়ে আসতেন। পরিবারের লোকজন বলতো-এ কাজ তো আমরাই করতে পারি, আপনি কেন এত কষ্ট করেন। তিনি বলতেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মিসকিনকে হাত বাড়িয়ে কোন কিছু দান করা খারাপ মৃত্যু থেকে মানুষকে রক্ষা করে। তাবারানী, ৩/২৫৮. হযরত মুয়াবিয়া রা.-এর শাসনামলে তাঁর মৃত্যু হয়।
হাদীসের শিক্ষা
আল্লামা শরফুদ্দীন তীবী রাহ. বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্বপ্ন দেখার পর সাহাবায়ে কেরামের সামনে বর্ণনা করলেন। যখন তিনি হারেছা ইবনে নোমানের নাম উল্লেখ করলেন, তখন তাঁর সেই অনন্য গুণের প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করলেন, যার দ্বারা তিনি এই মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন। ‘এমনই হয় তোমাদের সেবা ও সদাচারের প্রতিদান’ কথাটি পুনরুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করলেন যে, তোমরাও তার মতো মর্যাদার অধিকারী হতে পারবে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে।-শরহুত তীবী, ৯/১৫৮,
কুরআন-হাদীসে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের যে তাগিদ, গুরুত্ব এবং ফযীলত ও মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে, উক্ত হাদীস তার একটি দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল নানাভাবে পিতা-মাতার সাথে সদাচরণে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বিশেষভাবে মায়ের প্রতি সন্তানের সবচেয়ে বেশি অধিকারের কথাও বলেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো। …. তাদের সাথে কোমল কথা বল। এবং তাদের সাথে মমতাপূর্ণ আচরণের সাথে নিজেকে বিনয়াবনত করো তাদের সামনে এবং দু’আ করো- হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে, আপনিও তাদের প্রতি সেরূপ রহমতের আচরণ করুন।-বনী ইসরাঈল : ২৩-২৪।
হযরত আবু উমামা রা. বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সন্তানের উপর পিতা-মাতার কী হক রয়েছে? তিনি বললেন, তারাই তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম। অর্থাৎ তাদের সাথে সদাচরণ করা এবং তাদের অবাধ্য না হওয়া তোমার জান্নাত লাভ অবশ্যম্ভাবী করবে। পক্ষান্তরে তাদের সাথে অসদাচরণ এবং অবাধ্যতা তোমার জাহান্নামের পরিণতি অবধারিত করবে।-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৩৬৬২
হযরত মুআবিয়া ইবনে জাহিমা রা. বর্ণনা করেন, তার পিতা জাহিমা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জিহাদে যেতে চাই, এ ব্যাপারে আপনার সাথে পরামর্শ করতে এসেছি। তিনি বললেন, তোমার মা কি জীবিত আছেন? তিনি বললেন, জ্বী হাঁ। আল্লাহর রাসূল বললেন, তাহলে মায়ের খেদমতে লেগে থাক। তার পদতলেই তোমার জান্নাত। (অর্থাৎ মায়ের সন্তুষ্টি ও সেবার মাধ্যমে তুমি জান্নাত লাভ করতে পারবে।) তিনি একবার, দুইবার, তিনবার বিভিন্ন মজলিসে একই কথা জিজ্ঞেস করলেন এবং প্রত্যেক
বার আল্লাহর রাসূল তাকে একই উত্তর দিলেন।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৩১০৪

এই পৃথিবীতে মোট ধর্মের সংখ্যা কত? কোন ধর্মের লোক সবচেয়ে বেশী, জেনে নিন

বলতে পারেন পৃথিবীতে কত ধর্ম রয়েছে? সঠিক সংখ্যাটা এখনও জানা না গেলেও, চার হাজারের বেশি ধর্ম রয়েছে। Adherents.com-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হদিশ পাওয়া ধর্মের সংখ্যা ৪,৩০০। তবে, সঠিক সংখ্যাটা এর চেয়ে বেশি হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এর মধ্যে শুধু দু’টি ধর্মই দাবি করতে পারে তাদের অনুগামীর সংখ্যা ১০০ কোটির বেশি।Adherents .com-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টান রয়েছেন প্রায় ২০০ কোটি। এর পরেই রয়েছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। ১৩০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি মুসলিম রয়েছেন।নাস্তিক, অধর্মীয় বা ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ১১০ কোটি, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের থেকে বেশি। বিশ্ব হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৯০ কোটি। হিন্দুই তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম। চিনা ঐতিহ্যগত ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ৩৯ কোটি ৪০ লক্ষ।বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রয়েছেন ৩৭ কোটি ৬০ লক্ষ। আদিম-আদিবাসী ধর্মের মানুষের সংখ্যাও ৩০ কোটি।

Comments

comments

SHARE