বিনা কারণে রোগীদের আইসিইউতে ভর্তি রেখে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) পাঁচজনকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।আজ বুধবার দুপুরে র‍্যাব ৬-এর একটি দলের বিশেষ অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফিরোজ আহমেদ এই সাজা দেন। তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতালের এমডি ডা. গাজী মিজানুর রহমানসহ পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে গেছে র‍্যাব।অভিযান শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফিরোজ আহমেদ জানান, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ হাসপাতালের ফ্রিজে সংরক্ষণ, অনুমতি না থাকলেও ব্ল্যাড ব্যাংক স্থাপন, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিনা কারণে রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে টাকা আদায় করার দায়ে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের

 

এমডি ডা. গাজী মিজানুর রহমানসহ পাঁচজনকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।দণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন হাসপাতালের চিকিৎসক এ বি এম মাহবুবুল হক, সুভাষ কুমার সাহা, হারুণ অর রশিদ ও জেমস তরুণ।গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে ডেল্টা ফার্মেসি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির উদ্দিনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।র‍্যাব ৬-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের ভর্তির আগে বলা হয় তিন হাজার টাকা খরচ হবে। ভর্তির পর ভর্তি ফি তিন হাজার, সার্ভিস চার্জ তিন হাজার, আবার ডাক্তার ফি তিন হাজারসহ মোট নয় হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিনা প্রয়োজনে আইসিইউতে রেখে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টে চিকিৎসকদের আগাম স্বাক্ষর নেওয়ার প্রমাণপত্র পাওয়া গেছে।

রাজধানী ঢাকার শহরের ইতিহাস

প্রায় ৭০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ঢাকা অঞ্চলটিতে শহর গড়ে ওঠে। ঢাকার নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধে্য ব্যপক মতভেদ রয়েছে। কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো, তাই রাজা, মন্দিরের নাম রাখেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। আবার অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবাহ্ বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ,

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উড়িষ্যার বেশকিছু অঞ্চল) রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন; তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশস্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্তির রূপ নেয় এবং তা থেকেই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, মুঘল সাম্রাজ্যের বেশ কিছু সময় ঢাকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর নামে পরিচিত ছিলো।

১৬১০ সালে সুবেদার ইসলাম খান চিশতি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থানান্তর করেন। প্রথমবারের মত ঢাকা রাজধানী হওয়ার মর্যাদা লাভ করে। তিনি মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীর নগর। ১৬১৩ সালে মৃত্যুর আগে সুবেদার দলুয়া বা ধোলাই নদীর (বর্তমান বুড়িগঙ্গা) তীরে একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম ছিল “কেল্লা-ই-জাহাঙ্গীর”। এই কেল্লাতেই পরবর্তীকালে ইংরেজরা নবাব সিরাজদৌলার স্ত্রী-সন্তানদের বন্দী করে রেখে ছিল।

ঢাকা (ইংরেজি: Dhaka; ১৯৮২ সালের পূর্বে Daccaনামে লেখা হত) বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন একটি শহর এবং বর্তমানে বাংলাদেশের রাজধানী। বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, খ্রিস্টিয় ৭ম শতক থেকে ঢাকায় লোক বসবাস শুরু করে। নবম শতকে সেন শাসন শুরু হওয়ার আগে ঢাকা বৌদ্ধ রাজ্য কামরূপ-এর অধীনে ছিল। [২] সেন পরবর্তী যুগে ঢাকা তুর্কি ও আফগান শাসনাধীন হয়। এসময় ঢাকা দিল্লী সালতানাত নির্ধারিত শাসকদের দ্বারা শাসিত হয়। ১৬০৮ সালে ঢাকায় প্রথম মুঘলদের পা পড়ে। ১৬১০ সালে ঢাকার নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীর নগর। সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল সাম্রাজ্যে দুর্বলতা দেখা দেয়ার সময়ে আঠারো শতকের শুরুতে ঢাকা থেকে রাজধানী সরিয়ে নেয়া হয় মুর্শিদাবাদে। মুঘল পরবর্তীযুগে ঢাকা প্রায় ১৯০ বছর ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকে। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে ঢাকা পূর্ব বঙ্গের রাজধানি হিসেবে পাকিস্তানের অন্তর্গত হয়। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ ঢাকাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ি ঢাকাকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাজধানী হিসেবে ঘোষনা করা হয়।

১৬১০ সালে ঢাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করলেও এর মধ্যে অনেকবার সুবে বাংলার রাজধানী পরিবর্তন হয়। কয়েক বছর পরই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার নিয়োগ হাওয়ার পর শাহ্‌ সুজারাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেন। কিন্তু ১৬৬০ সালে শাহ্‌ সুজার পতন ঘটে, মীর জুমলাআবারও ঢাকাকে রাজধানীর মর্যাদা ফিরিয়ে দেন। এরপর অনেক কাল ঢাকা নির্বিঘ্নে গৌরবের সাথে রাজধানীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিল। ১৭১৭ সালে মুর্শিদ কুলি খান বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদেস্থানান্তর করেন। এরপর ঢাকায় মোঘল শাসনামলেচলতো নায়েবে নাজিমদের শাসন। মীরজাফরেরবিশ্বাসঘাতকতায় মুঘলদের পরাজয়ের পর আস্তে আস্তে ঢাকার গুরুত্ব কমতে থাকে।

মুঘল শাসনের পূর্বে বাংলা মুঘলবিরোধী বারো ভূঁইয়াকর্তৃক শাসন হত। বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু তারা সফল হয় না। মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল। ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে সম্রাট জাহাঙ্গীর রাজমহলের সুবেদার নিয়োগ করেন। তিনি ১৬১০ সালে ঢাকা বিজয় করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, বারো ভূইয়ারশাসনের সময় বাংলার প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল সোনারগাঁও। দায়িত্ব নেবার পাঁচ বছরের মধ্যে ইসলাম খান চিশতী মুসা খাঁকে হত্যা করার মাধ্যমে বারো ভূইয়ার জমিদারি শাসনের অবসান ঘটান। বর্তমান চট্টগ্রামের কিছু অংশ বাদে পুরো সুবে বাংলা মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। অনেক ক্ষেত্রে জানা যায়, ঢাকা বিজয়ের ভবিষ্যৎ রাজধানীর সীমানা নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকিদের কয়েকজনকে নির্দেশ দেন সর্ব শক্তিতে ঢাক (বাদ্যযন্ত্র, ঢোল) বাজাতে আর তিনজন ঘোড়সওয়ার সৈন্যকে নির্দেশ দেন উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ঘোড়া ছোটাতে। যে পর্যন্ত ঢাকের শব্দ শুনতে পাওয়া যায় সে পর্যন্ত গিয়ে নিশানা গেড়ে শহরের সীমানা নির্ধারণ করে তবেই তারা ফিরবে। ঢাকার নামকরণের ক্ষেত্রে অনেক গুলো মতবাদের মধ্যে এই মতবাদটিকেও ধরা হয়। যদিও এখন পর্যন্ত ঢাকার নামকরণের কোনো সুনির্দিষ্ট ইতিহাস নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এখানে উল্লেখ্য, তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরকে সম্মান করে তার জীবতকাল পর্যন্ত ঢাকার নাম জাহাঙ্গীর নগর রাখা হয়েছিল।

সুত্র: উইকিপিডিয়া

Comments

comments

SHARE