বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৪ ধরনের খতিয়ান রয়েছে। যথা –

(১) সি,এস খতিয়ান, (২) এস, এ খতিয়ান (৩) আর, এস খতিয়ান, (৪) বি, এস খতিয়ান/ সিটি জরিপ।
(১) সি, এস(CS) খতিয়ানঃ
=================
সিএস খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- Cadastral Survey.

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪০ সালে সরকার জরিপের মাধ্যমে যে খতিয়ান প্রস্তত করেন তাকে সি, এস খতিয়ান বলে।১৮৮৮ সালে(ভূমি মন্ত্রণালয় অনুসারে ১৮৮৭) সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে এই জরিপ পরিচালিত হয়ে বলে এটাকে ভারত উপমহাদেশে প্রথম জরিপ বলা হয়।এই জরিপ ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ম পরিচ্ছেদ অনুসারে সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারাদেশে পরিচালিত হয়।উক্ত জরিপের মাধ্যমে জমির বিস্তারিত মৌজা নক্সা (ম্যাপ) প্রস্তুত করা হয়।এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপূর্বক ভূমির বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণি, পরিমাণ. খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।এ জরিপ পি-৭০ শীটে কিস্তোয়ারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সি, এস জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্স-বাজার রামু থানা থেকে আরম্ভ হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় শেষ হয়।সে সময় সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অধীন থাকায় সিলেট জেলায় সিএস জরিপ হয়নি।তবে জরুরী বিবেচনায় সিলেট প্রজাস্বত্ত্ব আইনের আওতায় সিলেট জেলার ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে
১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সালে শেষ হয়।

সি, এস জরিপের সময় প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে এবং দখলদার রায়তের নাম খতিয়ানের নিচে লেখা হতো।সে সময় জমিদারগণ সরকার পক্ষে জমির মালিক ছিলেন এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে ভোগ দখলে ছিলেন।

প্রথম এই জরিপের নক্সা ও খতিয়ান খুবই নিখুঁত এবং নির্ভরযোগ্য হিসেবে এখনো গ্রহণযোগ্য।এটাকে সকল কাজের বেস ধরে মামলা মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সি, এস খতিয়ানকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

সি, এস/ CS খতিয়ান চেনার উপায়ঃ

১. এটা উপর থেকে নিচে লম্বালম্বিভাবে থাকবে,

২. এপিট ওপিট উভয় পৃষ্ঠায় হবে,

৩. প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার এবং প্রজার নামে দুইটা ভাগ থাকবে,

৪. সবার উপরে লেখা থাকবে “ বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৩” (এটা সব ফরমে একই থাকবে),

৫. অপর পৃষ্ঠায় “উত্তর সীমানা” নামে একটা কলাম থাকবে।

(২) এস, এ (SA) খতিয়ানঃ
=================
এস, এ খতিয়ান-এর পূর্ণরূপ- State Acquisition খতিয়ান।

১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২৭ হতে ৩১ ধারা অনুযায়ী ১৯৫৬-৬০ সালে যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস, এ (State Acquisition) খতিয়ান বলে।১৯৫০ সালে জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।২/৪/১৯৫৬ তারিখে এই আইনের ৩ ধারা আওতাধীন বিজ্ঞপ্তি মূলে সরকার কর্তৃক সকল জমিদারি দখল নেয়ার পর উক্ত অ্যাক্টের ১৭ ধারা মোতাবেক যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তা এস, এ খতিয়ান নামে পরিচিত।

মূলতঃ জমিদারি ও মধ্যস্বত্ব বিলোপ করে জমিদারগণকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের তালিকা প্রনয়ন এবং ভূমি মালিকগণকে /রায়তকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করার লক্ষ্যে সে সময় একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ ও রেকর্ড সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা পরবর্তীতে এস, এ খতিয়ান বলে পরিচিত পায়।১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়।জরিপে ভূমি মালিকের নাম ও জমির বিবরণাদি সম্বলিত হাতে লেখা রেকর্ড/খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়, যার মধ্যে একটি জেলা রেকর্ড রুমে এক কপি তহশিল(ইউনিয়ন ভুমি অফিস) অফিসে এবং অন্যটি সার্কেল পরিদর্শক (উপজেলা রাজস্ব) অফিসে প্রদান করা হয়।জরুরী তাগিদে জমিদারগণ হতে প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে এই জরিপ পরিচালিত হয়।এটাকে পি, এস(Pakistan Survey) জরিপও বলে কারণ এটা পাকিস্তান আমলে করা হয়েছিল।

এস, এ(SA) খতিয়ান চেনার উপায়ঃ

১. এই খতিয়ান সবসময় আড়াআড়ি ভাবে হয়,

২. এইটা সবসময় হাতে লিখা হয়(প্রিন্ট হবেনা),

৩. এই খতিয়ানে সাবেক খতিয়ানের (CS) এবং হাল নম্বরটা থাকবে,

৪. এইটা এক পৃষ্ঠায় হবে।

(৩) আর,এস(RS) খতিয়ানঃ
==================
আর,এস খতিয়ান এর পূর্ণরূপ হলো- Revisional Survey
[RS খতিয়ান তৈরি হয় এসএ খতিয়ানের অধীনে]

এই আইনের ১৪৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেন এরূপ খতিয়ানকে বলা হয় আর,এস খতিয়ান(Revisional Survey)। সি, এস জরিপ সম্পন্ন হওয়ার সুদীর্ঘ

৫০ বছর পর এই জরিপ পরিচালিত হয়।জমির অবস্থা, প্রকৃতি, মালিক, দখলদার ইত্যাদি হালনাগাদ করার লক্ষ্যে এ জরিপ সম্পন্ন করা হয়।এস, জরিপের সময় সরেজমিনে তদন্ত বা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা হয়নি।জমিদারদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এস, এ জরিপ বা খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় বলে তাতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুটি থেকে যায়। এই ত্রুটি-বিচ্যুটি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চরে সরেজমিনে ভুমি জরিপ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা আর, এস বা Revisional Survey জরিপ হিসেবে পরিচিত।এই জরিপে প্রস্তুতকৃত নকশা(ম্যাপ) এবং খতিয়ান নিভূল হিসেবে গ্রহণীয়।

আর, এস/ RS খতিয়ান চেনার উপায়ঃ

১. ফরম এর সবার উপরে হাতের ডান পাশে লেখা থাকবে “রেসার্তে নং”,

২. আগে সাধারনত ২ পৃষ্ঠায় হত, এখন এই খতিয়ান ১ পৃষ্ঠায় হয়,

৩. এটাও উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ভাবে হয়।

(৪) বি,এস খতিয়ান/ সিটি জরিপঃ
=====================
১৯৯৮-৯৯ সাল হতে বর্তমানে চলমান জরিপকে বি, এস খতিয়ান বা সিটি জরিপ বলে। যাহা এখনো চলমান।সিটি জরিপের আরেক নাম ঢাকা মহানগর জরিপ।আর, এস জরিপের পর বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সাল থেকে এ উদ্যেগ নেয়।এ যাবৎকালে এটি আধুনিক ও সর্বশেষ জরিপ এটি।এ জরিপের পরচা কম্পিউটার প্রিন্ট-এ প্রকাশিত হয়।

বি,এস খতিয়ান/ City Survey খতিয়ান চেনার উপায়ঃ

১. এই খতিয়ানে ৯ টা কলাম থাকবে,

২. এতে আরো বলা থাকবে কি ধরনের জমি নিয়ে খতিয়ানটা(যেমনঃ নাল জমি, পুকুর)।

(৫) দিয়ারা জরিপঃ দিয়ারা জরিপ হলো দরিয়া সম্পর্কিত জরিপ।জেগে উঠা নতুন ভূখন্ড(চর) জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে সিকস্তি বা পয়স্তির কারণে ভৌগলিক সীমারেখা ও স্বত্বের পরিবর্তন হলে নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় নতুন জরিপ করা হয়।এ সমস্ত জরিপে নক্সা ও রেকর্ড তৈরি করা হয়।এটি অতি পুরাতন জরিপ।ক্যাডাস্টাল জরিপ আরম্ভ হয় ১৯৮৮ সালে, পক্ষান্তরে দিয়ারা জরিপ আরম্ভ হয় ১৯৬২ সালে।দিয়ারা জরিপ সাধারণ জরিপের জন্য প্রযোজ্য সকল স্তর অনুসরণ করে পয়স্তি ভূমির(চর) নক্সা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়।দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে ৪ টি (রাজশাহী, নরসিংদী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম) আঞ্চলিক অফিসসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের মাধ্যমে সারাদেশে সুনির্দিষ্ট কিছু মৌজায় এ জরিপ পরিচালিত হয়।

নিজে জানুন এবং অন্যকে জানাতে শেয়ার করতে পারেন।

স্বামীর সাথে স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কী হয় ??

প্রাচীনকাল থেকে সমাজে বিয়ে করার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন গড়ে ওঠে। এরপর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে ভাবাভাবি শুরু। বিয়ের আগে আমরা পাত্র-পাত্রীর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এ সমস্ত সকল বিষয়ে যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে থাকি।

কিন্তু, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সংক্রান্ত ব্যাপারটি।যেটা সব থেকে আগে জানা দরকার। কিন্তু আমরা অধিকাংশ মানুষই এই বিষয়টার দিকে কোন ধরনের নজর দেই না।তাহলেবিস্তারিত জেনে নেইঃ

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে কোনো সমস্যা হয় কি? অনেকের মধ্যে এমন অজানা একটি প্রশ্ন জাগে। যা নিয়ে তারা অযথা দুশ্চিন্তা করে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ‘এতে কোনো সমস্যাই হয় না।’

গোটা পৃথিবীতে রক্তের গ্রুপ ৩৬ শতাংশ ‘ও’ গ্রুপ, ২৮ শতাংশ ‘এ’ গ্রুপ, ২০ শতাংশ ‘বি’ গ্রুপ। কিন্তু এশিয়াতে প্রায় ৪৬ ভাগ মানুষের রক্তের গ্রুপ ‘বি। এশিয়ায় নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ ৫ শতাংশ, সেখানে ইউরোপ আমেরিকাতে প্রায় ১৫ শতাংশ।

যেখানে উপমহাদেশে সিংহভাগ মানুষের রক্তের গ্রুপ ‘বি’। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপের মিল হবে সেটাই স্বাভাবিক। এতে কোনো সমস্যা হয় না।

কিন্তু, যদি স্ত্রীর নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ থাকে এবং স্বামীর পজিটিভ গ্রুপ থাকে তাহলে সমস্যা হয়ে থাকে। যাকে জয Rh Isoimmunization বলে। সেটারও সহজ চিকিৎসা বা টিকা আছে। অনেকের ভ্রান্ত ধারণা- বাবা মায়ের রক্তের গ্রুপ এক হলে বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া হয়। এটাও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ, থ্যালাসেমিয়া রোগ ক্রোমোজোম এবনরমালিটি থেকে হয়।

রক্তের যে সকল গ্রুপ রয়েছে তা হলো: এ পজেটিভ, এ নেগেটিভ, বি পজেটিভ, বি নেগেটিভ, এবি পজেটিভ, এবি নেগেটিভ, ও পজেটিভ এবং ও নেগেটিভ।

স্বামীর রক্তের গ্রুপ স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সন্তানের অবস্থান:

পজিটিভ(+) পজেটিভ(+) সুস্থ সন্তান

নেগেটিভ (-) নেগেটিভ (-) সুস্থ সন্তান

নেগেটিভ (-) পজেটিভ (+) সুস্থ সন্তান

পজিটিভ (+) নেগেটিভ (-) প্রথম সন্তান সুস্থ, দ্বিতীয় থেকে সমস্যা

উল্লেখ্য, প্রধানত রক্তের গ্রুপকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা হলো এবিও পদ্ধতি (এ, বি, এবি এবং ও) অন্যটা আরএইচ ফ্যাক্টর (আরএইচ পজেটিভ এবং আরএইচ নেগেটিভ)। এ রেসাস ফ্যাক্টরই ঠিক করে দেয় ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে।

Comments

comments

SHARE