দাগ পড়ে আমাদের  কত প্রিয় জিনিসই তো নষ্ট হয়ে যায় । হয়তো পছন্দের জামাটা আর কখনো পরাই হয়না, হয়তো প্রিয় সেই আয়নাটাই হয়ে যায় ব্যবহারের অযোগ্য। অনেক সময় আবার কোন কিছু কাটাকাটি করতে গিয়ে হাতে দাগ বসে যায়, বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তখন আমাদের।  ভালো হতো, যদি এসব বিচ্ছিরি দাগ দূর হয়ে যেত এক নিমিষে! আজকে আপনাদের এমন ৮টি উপায় জানাবো যাতে সহজে কঠিন দাগ উঠিয়ে ফেলতে পারেন ।

লোহার জিনিসে মরিচার দাগ

লোহার জিনিসে অনেক সময়ই মরিচার দাগ পড়ে। এক্ষেত্রে একটা সুতি কাপড়ে টুথপেষ্ট নিয়ে সেই স্থানে ভালো করে ঘষুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। দাগ চলে যাবে। বেকিং সোডাও চাইলে ব্যবহার করতে পারেন।

আয়নায় পড়া ঘোলাটে দাগ

অনেক সময় বেসিনের আয়নায় পানির ছিটা লেগে ঘোলাটে দাগ পড়ে যায়। পুরনো নাইলনের মোজা দিয়ে মুছে ফেলুন। দাগ উঠে যাবে। পুরোনো পেপারে একটু লেবুর রস ঢেলে সেটা দিয়েও ঘষতে পারেন।

কাপড়ে তরকারীর ঝোল

অনেক সময় কাপড়ে তরকারির ঝোল পড়ে। যার কারণে হয়তো বাতিল হয়ে যায় সেই কাপড়টি। এ দাগ থেকে মুক্তি পেতে দাগ পড়া অংশে লেবুর রস লাগিয়ে শুকিয়ে ফেলুন। তারপর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, দেখবেন দাগ বিলীন।

জানালার কাঁচে ধুলো জমা দাগ

জানালার কাঁচে অনেক সময় ধুলো জমে দাগ পড়ে যায়। পরিষ্কার করার জন্য পানির মধ্যে কয়েক ফোঁটা অ্যামোনিয়া মিশিয়ে ব্যবহার করুন। আর দাগ থাকবেনা। মনে রাখবেন, বেশি রোদের তাপ যেদিন থাকবে সেদিন জানালা পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবেন।

বাথরুমের মেঝেতে দাগ

বাথরুমের মেঝেতে পানি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে যায়, দাগ পরে পানির। খুব সহজেই এটা কিন্তু দূর করতে পারবেন। কীভাবে? কফি খাওয়ার পর মগে যে বাকি অংশ তা দিয়ে মেঝে ঘষে পরিষ্কার করে ফেলুন, দাগ আর থাকবে না।

পেঁয়াজ বা তরকারি কাটলে হাতের আঙুল কালো হয়ে যায়। বিচ্ছিরি এই দাগ দূর করা কিন্তু খুব সোজা। তরকারি কাটার পর হাতে এক টুকরো লেবু ঘষে নিন। তারপর হাত ধুয়ে ফেলুন, দাগ চলে যাবে।

বেসিনের হলুদ দাগ

বেসিনে সারাক্ষণ পানি পড়ে হলুদ দাগ হয়ে যায়। কী করবেন ভাবছেন? একটু ভিনেগার বা অর্ধেক লেবু ঘষুন, দাগ উঠে যাবে। বেসিনে লালচে দাগ পড়লে তারপর আর নুনের মিশ্রণ তৈরি করে ঐ অংশে ঘষুন। দাগ হাওয়া হয়ে যাবে।

জানালার কাঁচে পড়া দাগ

জানালার কাঁচে দাগ পড়লে হালকা গরম পানির সাথে কয়েক ফোটা লিকুইড সাবান মিশিয়ে নিন। এক্ষেত্রে সবসময় উপরের দিক থেকে মোছা শুরু করবেন এবং নীচের দিকে এসে শেষ করবেন। তাহলে জানালায় আর হাতের দাগ লাগবে না।
লেখাটি পছন্দ হইলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

-নিশিতা মিটু

খাওয়ার পর যে কাজ গুলো করলে হতে পারে মৃত্যু

অনেক সময় আমরা অজান্তে এমন কিছু কাজ করে ফলি, যা শরীরের পক্ষে সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যেমন ধরুন খাবার খাওয়ার পর আমরা অনেকেই সিগারেটে সুখ টান দেন। আবার কেউ কেউ খাবার খেয়েই তাড়াতাড়ি শুয়ে পরেন। অনেকে আবার খাওয়ার পর ফল বা কফিও খেতে ভালবাসেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এ সব অভ্যাস আদৌ শরীরের পক্ষে ভাল নয় । বর্তমানে পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে না জেনেই অনেকে এমন অভ্যাসের দাস হয়ে পরেন।আসুন এখন আমরা জেনে নেই খাওয়ার পর আর কি কাজ করা উচিত নয়।

১. খেয়ে উঠেই বই পরবেন না: শুনে এতটু অবাক হলেন, তাই তো! কিন্তু একথার মধ্যে কোনও ভুল নেই যে খাবার পর বই পরলে বদ-হজম হবেই হবে। কিন্তু বই পড়ার সঙ্গে বদ হজমের কী সম্পর্ক? খাবর খাওয়া পর তা যাতে ঠিক মতো হজম হয়, তার জন্য পেটের দিকে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায়। কিন্তু এই সময় যদি কেউ বই পড়া শুরু করেন। তাহলে যে পরিমাণ রক্ত প্রবাহ পেটের দিকে হওযা উচিত তা না হয়ে কিছুটা চোখ এবং মস্তিষ্কের দিকে হতে শুরু করে। ফলে খাবার ঠিক মতো হজম হতে পারে না। আর এমন দীর্ঘদিন ধরে হতে থাকলে ক্রনিক বদ-হজম এবং পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার পথও প্রশস্ত হয়।

২. খাবার সময় পানি খাওয়া চলবে না: খাবার পরে স্যালাইভা খাবার হজমের কাজে লেগে পরে। সেই সঙ্গে খাবারে উপস্থিত খারাপ ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে পেট খারাপের হাত থেকেও আমাদের রক্ষা করে থাকে। এই সময় পানি খেলে স্যালাইভা নিজের কাজ ঠিক মতো করতে পারে না। ফলে একদিকে খাবার যেমন ঠিক মতো হজম হতে পারে না। তেমনি অন্যদিকে খারাপ ব্যাকটেরিয়াদের কারণে নানাবিধ পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। এখন প্রশ্ন হল, খাবার খাওয়ার কতক্ষণ পরে জল খাওয়া উচিত? একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে স্যালাইভা কাজ শেষ করতে কম-বেশি ২০-৩০ মিনিট সময় লাগে। তাই এই সময়ের পরে পানি খাওয়া যেতে পারে।

৩. গোসল করা: খাবার ঠিক মতো হজম করতে পেটের দিকে রক্ত প্রবাহ ঠিক মতো হওয়াটা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু খাবার খেয়েই যদি কেউ গোসল করেন তাহলে এই প্রক্রিয়া বিগ্নিত হয়। ফলে বদ-হজম হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে য়ায়। তাই তো খাবার খাওয়ার কম করে ৪৫ মিনিট পরে খাবার খাওয়া উচিত, তার আগে নয়!

৪. ভরা পেটে ফল খাওয়া চলবে না: ফলকে হজম করতে বিশেষ কিছু এনজাইমের প্রয়োজন পরে। তাই ভরা পেটে ফল খেলে খাবারে পাশাপাশি ফলকে হজম করতে শরীরকে বেশ কসরত করতে হয়। ফলে অনেক সময়ই পেট খারাপ, বদহজম এমনকী গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যাও হতে পারে।

৫. শরীরচর্চা: পেট ভরে খাবার খাওয়ার পর শরীরচর্চা করা একেবারেই চলবে না। এমনটা করলে পেটে যন্ত্রণা, পেটে ক্র্যাম্প লাগা, মাথা ঘোরা এবং ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই এমন কাজ ভুলেও করবেন না।

৬. ধূমপান নয়: খাবার পর সিগারেট না খেলে শান্তি পান না এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। কিন্তু এমন অভ্যাস শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে খাবার আগে এবং পর পরই ধূমপান করলে সিগারেটে উপস্থিত কার্সিজেনিক উপাদান শরীরের বেশি করে ক্ষতি করার সুযোগ পয়ে যায়। ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

৭. খাবার পর পর ঘুম নয়: অনেকেই দুপুরে খাবার পর ভাত ঘুম দিতে পছন্দ করেন। এমনটা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পরলে বদ-হজম, অ্যাসিড রিফ্লাক্স প্রভৃতি সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই লাঞ্চ এবং ডিনার করার কম করে ১ ঘন্টা পর শুতে যাওয়া উচিত। তার আগে একেবারেই নয়।

Comments

comments

SHARE