আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠ ইবাদত হল জিকির এবং দোয়া । এ জিকির এবং দোয়া’র মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সানিধ্য লাভ করতে পারি। আর এ জিকির এবং দোয়া’র মধ্যেও রয়েছে পার্থক্য। হাদিসের পরিভাষায় তা প্রমাণিত। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য একটি শ্রেষ্ঠ জিকির ও দোয়া তুলে ধরেছেন।

হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’; আর শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ‘আল-হামদুলিল্লাহ’।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও মিশকাত)

শ্রেষ্ঠ জিকির ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’
তাওহিদের স্বীকৃতি বাণীকে সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হিসেবে সাব্যস্ত করার কারণ হলো- এ বাক্য ছাড়া ঈমান বিশুদ্ধ হয় না এবং মুসলমানও হওয়া যায় না। আর এ জিকিরই হলো ইসলাম ও ঈমানের অস্তিত্বের একমাত্র প্রধান মাধ্যম।

শ্রেষ্ঠ দোয়া ‘আল-হামদুলিল্লাহ’

এটি শ্রেষ্ঠ দোয়া হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার কারণ হলো- এ শব্দদ্বয়ের মধ্যে আল্লাহ তাআলার যাবতীয় প্রশংসা ‘হাম্‌দ ও শোকর’ নিহিত রয়েছে। মানুষ নিয়ামত ও বরকতের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এ শব্দদ্বয় পড়ে থাকে। যেভাবে আল্লাহ তাআলা মানুষকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বলেছেন। আল্লাহ বলেন- ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তবে আমি নেয়ামত বাড়িয়ে দেব।’

আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুসলিমাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষিত সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে নিয়মিত জিকির ও দোয়া করে তাঁর আনুগত্য ও নেকট্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জামায়াত শুরুর পরে এসে সঠিক নিয়মে নামাজ ধরার নিয়ম…
মসজিদে আসা সাধারণ মুসল্লিদের নামাজে অসঙ্গতি দেখা যায় নিত্যদিন। নামাজের শুরুতেই অংশগ্রহণ করতে না পারলে, রুকু, সেজদা বা তাশাহহুদ (প্রথম/শেষ বৈঠক)-এ এসে হাজির হয়ে বিব্র্র্র্রতকর অবস্থায় পড়তে দেখা যায় অনেক মুসল্লিকে। ছোট্ট কিছু নিয়ম জানলে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচা খুব সহজ।

আজকে আমরা জানব পরে এসে জামাতে অংশগ্রহণকারীর বিধান সম্পর্কে। নামাজের শুরুতে ইমামের সঙ্গে ছিল না, এক বা একাধিক রাকাত আদায়ের পর এসে সম্পৃক্ত হয়েছে এমন মুসল্লিকে ‘মাসবুক’ বলে।জামায়াত শুরু হয়ে ঈমাম কেরাত পড়া শুরু করেছেন এ সময় আগত মুসল্লি নিয়ত করে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে জামাতে শরিক হবেন। ফজর, মাগরিব ও এশার নামাজের ক্ষেত্রে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন। জোহর ও আসরের

নামাজের ক্ষেত্রে কেবল ‘সানা’ (সুবহানাকাল্লাহুম্মা…) পড়বেন এবং ইমামের আনুগত্য করবেন। ইমাম রুকুতে থাকাকালীন আগত মুসল্লি সোজা দাঁড়িয়ে নিয়ত করে আল্লাহু আকবর বলে নামাজে সম্পৃক্ত হবেন এবং আরেকটি তাকবির (আল্লাহু আকবর) বলে দ্রুত রুকুতে চলে যাবেন। তবে রুকুতে যেতে দেরি হলে অর্থাৎ রুকুতে যেতে যেতে ইমাম দাঁড়িয়ে গেলে দেরির মুসল্লি ইমামের সঙ্গে সিজদা করবেন ঠিক, তবে তাকে ওই রাকাতটি আবার আদায় করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে ইমাম রুকু শেষ করে সিজদায় গেলে, পরে এসে কেউ কেউ একাকি রুকু আদায় করে ইমামের সঙ্গে সিজদায় সম্পৃক্ত হয়ে মনে করেন রাকাত পেয়ে গেছেন। পরে ওই রাকাত আদায় করেন না। এতে ওই ব্যক্তির নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।

কারণ ইমামের সঙ্গে রুকু না পেলে রাকাত পাওয়া হয় না। ইমাম প্রথম বা শেষ রাকাতে থাকাকালীন এসে সম্পৃক্ত হলে, মুসল্লি সোজা দাঁড়ানো অবস্থায় ‘তাকবির’ বলে নামাজে সম্পৃক্ত হয়ে আরেক তাকবির বলে বৈঠকে যাবেন এবং তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু…) পড়বেন।

প্রথম বৈঠকের (৩-৪ রাকাতবিশিষ্ট নামাজে) ক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম দাঁড়িয়ে গেলে মুসল্লি তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়াবেন। শেষ বৈঠকে ইমাম দু’দিকে সালাম ফেরানোর পর দেরির মুসল্লি দাঁড়াবেন এবং অসম্পূর্ণ নামাজ সম্পূর্ণ করবেন। ছুটে যাওয়া নামাজ এক বা দু’রাকাত হলে একাকি আদায়ের সময় দু’রাকাতেই কেরাত অর্থাৎ সূরা ফাতেহার সঙ্গে অন্য একটি সূরা পড়তে হবে। দু’রাকাতের অধিক রাকাতের ক্ষেত্রে কেবল সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।

Comments

comments

SHARE