এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বস্তু মোবাইল। মানুষ তার দিনের অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে।আর ব্যস্তই থাকবে না কেন? কি নেই এখন মোবাইল ফোনে।গান শোনা, গেমস খেলা ফেসবুক টুইটার সহ সোসাল মিডিয়ার খবর সব কিছু মোবাইল ফোনে। আর এই সময়ে বৃষ্টির প্রতিনিয়ত দেখা না মিললেও হুট করেই চলে আসে কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই। সকালের অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে কলেজপড়ুয়া—সবাই কমবেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এরই মাঝে ল্যাপটপ ব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বাঁচাতে হচ্ছে সাধের মোবাইল ফোনটাকে। একটু সতর্কতা অবলম্বন করলেই কিন্তু মোবাইলের ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

এই বৃষ্টিতে সব সময়ই মোবাইল ফোনের জন্য আলাদা করে প্লাস্টিক জিপার ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন, যা অনেকটাই সুরক্ষিত করবে ফোনটিকে। যাত্রাপথে ফোনে কথা বলার প্রয়োজন হলে শুকনো জায়গা বেছে কথা বলা উচিত। ইয়ারফোনের ব্যবহার এসব ক্ষেত্রে সুবিধাজনক।
কিন্তু বলে-কয়েও তো বৃষ্টি আসে না সব সময়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিপার ব্যাগ সঙ্গে রাখার কথা মনেও থাকে না। সে ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান হিসেবে পলিব্যাগ কাজে আসবে।তাই অবশ্যই একখানা পলি ব্যাগ সাথে রাখবেন যেন প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা যায়। তবে মোবাইলখানা পলিব্যাগে ভরে রাখার আগে ভেতরটা শুকনো কি না, তা দেখে নিতে হবে। বৃষ্টিতে ভেজা থেকে যখন কোনোভাবেই ফোনটাকে বাঁচাতে পারছেন না, তখন অযথা হাত দিয়ে ফোন ঢাকার চেষ্টা করাও বৃথা। এতে হাত বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা বরং বেশি ঢুকে যেতে পারে।

এত চেষ্টার পরও সাধের মোবাইল ফোনে যদি পানি ঢুকে যায়, কী করবেন তখন? ভিজে যাওয়া মোবাইল ব্যবহার করার চেষ্টা না করাই ভালো। বন্ধ হয়ে থাকলে তা চালু করার দরকার নেই। আর যদি বন্ধ না হয়ে থাকে, পানি ঢুকেছে বুঝতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলটিকে বন্ধ করা জরুরি। সবচেয়ে ভালো হয় ব্যাটারি খুলে ফেলতে পারলে।
এখনকার অনেক মোবাইল ফোনে ব্যাটারি সহজে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। কিছু কিছু ফোন তো সহজে খোলাই যায় না। অনভিজ্ঞ কেউ সেটি খোলার চেষ্টা করলে তাই হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই দ্রুত ফোনটিকে বিশ্বস্ত সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া ভালো। যদি হাতের কাছে সার্ভিসিং সেন্টার না পান, বাসায় ফিরে যত দ্রুত সম্ভব বাতাসে শুকিয়ে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা হলো, অনেক সময় ঠিকমতো শুকিয়ে নিতে না পারলে ফোন চালু করার সঙ্গে সঙ্গে শর্টসার্কিট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

আরও কিছু টিপস। কাজে আসতে পারে আপনার: বাসায় পৌঁছে প্রথমেই ফোনের পেছনের কাভার খুলে ব্যাটারি খুলে ফেলুন। স্মার্টফোনের ব্যাটারি যদি খোলার ব্যবস্থা না থাকে, তবে ফোনটি বাইরে থেকে মুছে নিয়ে তা কোনো শুকনো জায়গায় রেখে দিন। ঝাঁকিয়ে ফোনের ভেতরের পানি বের করার চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে পানি গড়িয়ে শর্টসার্কিট ঘটাতে পারে।
সিম ও মেমোরি কার্ড খুলে নিয়ে অন্য মোবাইল ফোনে ব্যবহার করুন। আপাতত ফোনটি ব্যবহার না করাই ভালো।
ভেজা মোবাইল কখনোই চার্জে দেওয়া উচিত নয়। মোবাইলে শর্টসার্কিট ঘটতে পারে।

চার্জার বা ইয়ারফোনের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ফুঁ দেওয়া উচিত নয়। পানির ফোঁটা গড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
ব্যাটারি খুলে নিয়ে ফোনের ভেতরকার পুরো অংশটা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলুন। এরপর আইসির (সার্কিট) ভেতরের অংশটুকু পুরোপুরি শুকোনোর জন্য এক-দুদিনের জন্য মোবাইলটা ব্যবহার করবেন না। এর মাঝে কোনোভাবেই ফোন অন করা উচিত নয়। অনেকেই মোবাইল ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা জানার জন্য মোবাইল চালু করে দেখেন। পানি না শুকালে এতে মোবাইলে আইসি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডিসপ্লেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পানি শুকাতে চাল ভর্তি কৌটার মধ্যে ঢুকিয়ে রাখতে পারেন। এটা অনেকটা টোটকা চিকিৎসার মতো।

এছারা এসি অন করে আপনার মোবাইল ফোনটি রেখে দিন।এতে এসির মাধ্যমে আপনার মোবাইল ফোনের সমস্ত পানি শুকিয়ে যাবে।
শুকিয়ে গেলে ব্যাটারি সংযুক্ত করে ফোন চালু করুন। অন না হলে ব্যাটারি চার্জ করে দেখুন। যদি চার্জ না নেয়, তবে নতুন ব্যাটারি ব্যবহার করুন। তাতেও কাজ না হলে সার্ভিসিং সেন্টারে যান।
ঠিকঠাক চালু হলেও কয়েক দিন মোবাইলে ভারী কাজ না করার পরামর্শ দেন কেউ কেউ—যেমন: বেশি গ্রাফিকস আছে, এমন গেম খেলা।
মোবাইলের সবচেয়ে বড় শত্রু পানি। তাই এই বর্ষায় মোবাইল ব্যবহারে সাবধানী হোন, সুরক্ষিত থাকুক আপনার মোবাইল।

Comments

comments

SHARE