বিশ্ব মানবতার মুক্তির পথ প্রদর্শক পবিত্র কুরআন যা কিনা সর্বশেষ ও চুড়ান্ত নবী মুহাম্মদ (স) এর উপর নাযিল হয়।মহান সৃষ্টিকর্তা মানব জাতির হেদায়েতের জন্য কুরআন নাযিল করেন।এই কুরআন নিয়ে যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গবেষণা করেছে তারা প্রত্যেকেই এক ও অভিন্ন মত পোষন করেছেন ইহা নির্ভুল ও সৃষ্টকর্তা হতে প্রদত্ত।

বিশিষ্ট ইংরেজ গবেষক জন ডেভেনপোর্ট বলেছেন, কুরআন ভুল-ত্রুটিমুক্ত হওয়ায় এতে কোনো ছোটখাট সংশোধনেরও দরকার নেই। তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার পরও কারোর মধ্যে সামান্যতম বিরক্তির সৃষ্টি হয় না। বছরের পর বছর ধরে পাদ্রিরা আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের বাস্তবতা ও মাহাত্ম্য থেকে দূরে বেখেছিলেন। কিন্তু আমরা যতই জ্ঞানের পথে এগুচ্ছি অজ্ঞতা ও অযৌক্তিক গোড়ামির পর্দা মুছে যাচ্ছে। একদিন এ মহাগ্রন্থ বিশ্বকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করবে ও মানুষের চিন্তা চেতনার প্রধান অক্ষে পরিণত হবে।

কানাডার অধ্যাপক ড. গ্যারি মিলার ছিলেন সাবেক খ্রিস্টধর্ম প্রচারক। একসময় তিনি পবিত্র কুরআনের মধ্যে ভুল খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। যাতে ইসলাম ও কুরআন বিরোধী প্রচারণা চালানো সহজ হয়। কিন্তু এর ফল হয়েছিল বিপরীত। অবশেষে আল্লাহর কুদরাতে তিনিই প্রবেশ করলেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।

পর তিনি তার মুসলিম নাম গ্রহণ করেছেন আবদুল আহাদ উমার।

অধ্যাপক ড. গ্যারি মিলার বলেন, আমি একদিন কুরআন সংগ্রহ করে তা পড়া শুরু করলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম কুরআন নাযিল হয়েছিল আরবের মরুচারীদের মধ্যে। তাই এতে নিশ্চয় মরুভূমি সম্পর্কে কথা থাকবে। কুরআন নাযিল হয়েছিল ১৪০০ বছর আগে। তাই খুব সহজেই এতে অনেক ভুল খুঁজে পাব ও সেসব ভুল মুসলিমদের সামনে তুলে ধরব।

কিন্তু কুরআন পড়ার পরে বুঝলাম আমার এসব ধারণা ঠিক নয়, বরং আমি অনেক আকর্ষণীয় তথ্য পেলাম। বিশেষ করে সূরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতটি আমাকে গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত করে। সেখানে আল্লাহ বলেন, এরা কী লক্ষ্য করে না কুরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে নাযিল হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখা যেত’।

 

এরপর আরো গভীরভাবে কুরআন অধ্যয়ন করলেন গ্যারি মিলার। আর তার এই অধ্যয়নই তাকে নিয়ে গেল ইসলামের পথে। ইসলামের দোষ খুঁজতে গিয়ে তিনি হয়ে গেলেন একজন মুসলিম— তথা মহাসত্যের কাছে সমর্পিত একজন।

তিনি বলেছেন, আমি খুব বিস্মিত হয়েছি যে কুরআনে ঈসার (আ.) মাতা মারিয়ামের নামে একটি বড় পরিপূর্ণ সূরা রয়েছে। আর এ সূরায় তার এত ব্যাপক প্রশংসা ও সম্মান করা হয়েছে যে এত প্রশংসা বাইবেলেও দেখা যায় না। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর নাম মাত্র ৫ বার এসেছে।

Comments

comments

SHARE