বর্তমানে ফেসবুক একটি জনপ্রিয় সোসাল মিডিয়া।ফেসবুকে আসল  আইডির চেয়ে নকল আইডির পরিমান বেশি। ফেসবুক এখন নিরাপত্তাজনিত কারনে বিগত বছর হতে এখনও পর্যন্ত ফেইক আইডি ডিজেবল একশন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।তবুও এখনও কিছু কিছু ফেইক আইডি একটিভ আছে।এসকল আইডি বিভিন্ন ইনফরমেশন দিয়ে তৈরি তাই হয়তো ফেসবুক ডিজেবল করছে না।

ফেসবুক বিড়ম্বনার একটি পরিচিত ধরণ হল ফেক বা নকল আইডি। ফেক একাউন্ট বলতে বুঝায় এমন একাউন্ট যার ভিতর দেয়া তথ্যগুলো(নাম, ছবি, ই-মেইল, ইত্যাদি) মিথ্যা হয়ে থাকে। এই ধরণের একাউন্ট সাধারণত প্রতারণার উদ্দেশ্যে খোলা হয়। ফেক একাউন্ট এর ফলে অনেকেই ভয়াবহ ফাঁদে পা দিয়ে মারাত্মক পরিনতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই ফেক আইডির ক্ষেত্রে কি করতে পারি তা জানার আগে জেনে নেই কিভাবে ফেক আইডি সনাক্ত করবঃ

প্রোফাইল পিকচার : সাধারণত ফেক আইডিতে শুধুমাত্র একটি বা সামান্য কয়েকটি প্রোফাইল পিকচার থাকে। এ ছাড়া ফেক আইডিতে আসল সাইজের ছবি থাকে না, থাকে ছোট সাইজের বা কেটে নেওয়া ছবি।অথবা এডিট করা ছবি।

ছবির অ্যালবাম: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফেসবুকের নকল প্রোফাইলে ছবির অ্যালবাম থাকে না। একটি আসল প্রোফাইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছবির অ্যালবাম থাকে যেগুলো নকল প্রোফাইলের ক্ষেত্রে থাকে না। অ্যালবাম থাকলেও নিজের ছবির বদলে ফুল, পাখি, প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি দিয়ে অ্যালবাম বানিয়ে রাখে ফেক প্রোফাইলধারীরা।

বন্ধুদের সাথে কমেন্ট আদান প্রদান: আসল ফেসবুক প্রোফাইলে স্বাভাবিক ভাবেই স্ট্যাটাস ও ছবিতে বন্ধুদের সাথে প্রচুর কমেন্ট আদান প্রদান করা হয়। কিন্তু নকল ফেসবুক প্রোফাইলে এধরনের কমেন্টের আদান প্রদান ও কথোপকথন থাকে না। কমেন্ট থাকলেও তা শুধু প্রশংসা বাক্যই থাকে।

বন্ধু তালিকা বা ফ্রেন্ডলিস্ট : আইডির বন্ধু তালিকা যদি পাবলিক করা থাকে, তাহলে তার ফ্রেন্ড লিস্ট দেখে যাচাই করা যাবে। কারণ সাধারণত খুব অল্প ফ্রেন্ড থাকে। আর বেশী ফ্রেন্ডের ক্ষেত্রে এলোমেলো বন্ধু(মিউচুয়েল ফ্রেন্ড থাকে না)হয়।

পোষ্ট : আইডিতে যদি নোংরা বা খারাপ পোস্ট থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সেটি ফেক আইডি। কেননা কেউই তার নিজ ফেইসবুক আইডিতে নোংরা পোষ্ট দিয়ে সবার সামনে খারাপ হতে চায় না।

পেজ লাইক: সন্দেহের আইডিটি কী ধরনের পেজে লাইক দিয়েছে সেটা তার রিসেন্ট অ্যাকটিভিটিতে ও টাইমলাইনে পাওয়া যাবে। সাধারণত মানুষ এমন গ্রুপে জয়েন করে যা তার স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটি, কর্মক্ষেত্র, কোনো সেবামূলক, ইন্টারেস্ট কাজ ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে ফেক আইডির ক্ষেত্রে তা উল্টো হয়ে থাকে। অপ্রাসঙ্গিক যেকোন গ্রুপেই সে জয়েন করে।

ইউজার নেম আর আইডি নেম একই কিনা দেখুন : ফেসবুকে ইউজার নেমটি বেশি বার বদলানো যায় না। তাই এটা ফেক আইডি যাচাইয়ের একটা ভাল উপায় হতে পারে। ইউজার নেম ও আইডির নাম দুটি ভিন্ন হলে বুঝতে হবে এটি একটি ফেক একাউন্ট।

পেজ লাইক ইনভাইট : কোন অপরিচিত আইডি যদি বারবার তার ফেইসবুক পেজ লাইক দেওয়ার জন্য ইনভাইট পাঠায় বা আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য আকারন আগ্রহ দেখায় সে ক্ষেত্রে আইডিটি ভাল ভাবে যাচাই করে নিতে হবে।

বেসিক ইনফো : নকল প্রোফাইলে অধিকাংশ সময়েই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরীর তথ্য পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে এমন সব স্কুল কলেজের নাম দেয়া থাকে যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। আবার অনেক সময় পরিচিত স্কুল কলেজের নাম দেয়া থাকে অথচ কোনো ব্যাচমেট ফ্রেন্ড বা ট্যাগ করা থাকে না।

উপরোক্ত বিষয় গুলো ছাড়াও আরও অনেক বিষয় বা কর্মকাণ্ড কোন অপরিচিত আইডির প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে, সে সব বিষয়গুলকে ভাল ভাবে যাচাই করতে হবে।

এবার জেনে নেয়া যাক ফেক আইডি সনাক্ত করার পর আমাদের কি করণীয়-

১। প্রথমত ফেক আইডি সনাক্ত করে সেই আইডিটিকে ব্লক করে দিতে হবে। ব্লক করার পর সাধারণত পরবর্তী আর কোন বিপদ হওয়ার আশংকা থাকেনা।

২। অনেক সময় আইডি ব্লক করার পরও ফেক আইডিটি পুনরায় অন্য আইডি দিয়ে আপনাকে বা আপনার পরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। তখন আইডিটিকে রিপোর্ট করতে হবে।

কোন পেজকে/প্রোফাইলকে যদি প্রচুর পরিমাণে রিপোর্ট সাধারন রিপোর্টের ক্ষেত্রে (২৬ জন) করা হয় এবং আইডিটি যদি আপনাকে নিয়ে তৈরি করা হয় তবে ফেসবুক সেই পেজ/প্রোফাইলকে ব্যান করে দেয়। আইডি রিপোর্ট করার নিয়ম গুলো নিম্নে দেয়া হল-

  • ফেক একাউন্টের প্রোফাইল এ যেতে হবে।
  • কভার ফটোর উপর অপশনে গিয়ে রিপোর্ট(Report)  অপশন সিলেক্ট করুণ।
  • পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী রিপোর্ট করার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ফেক একাউন্টটি রিপোর্ট করুণ।

সাধারণ পদ্ধতিতে ফেসবুকে রিপোর্ট করার কৌশল। [ছবি অনুসারে]

সূত্রঃডেইলি বাংলাদেশ

Comments

comments

SHARE