পৃথিবীতে একমাত্র সত্য ও শান্তির ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। কারণ এ ধর্মের দৃষ্টিতে মানুষের জীবনের রয়েছে সুনির্দিষ্ট অর্থ ও লক্ষ্য।বর্তমানে অনেকে মনে করে ১৪০০ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ধটে। কিন্তু আসল তানা।ইসলাম পৃথিবী সৃষ্টির শুরু হতে। পশ্চিমা সরকারগুলো বিভিন্ন সময় ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা মুসলিমদেরকে পাশ্চাত্যের জন্য বিপজ্জনক বলে তুলে ধরছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে মিডিয়াগুলো আর এই অজুহাত দেখিয়ে পশ্চিমা সমাজে মুসলিমদের উপর আরোপ করা হয়েছে নানা বিধি-নিষেধ। কিন্তু এতকিছুর পরও পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

 

 

২০১০ সালের শেষের দিকে সুইজারল্যান্ডে মসজিদের মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞার আইন চালু করার লক্ষ্যে এক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এই পদক্ষেপের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ নামের একটি উগ্র খ্রিস্টানপন্থী দল। দলটির পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন সুইস রাজনীতিবিদ ড্যানিয়েল স্ট্রিচ। তিনি পুরো সুইজারল্যান্ডে ইসলাম-বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে দেন। ফলে সুইস জনগণ মসজিদের মিনার নির্মাণের বিরোধী হয়ে পড়ে, মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ হয়।

 

 

কিন্তু পরে পাশ্চাত্যে ইসলাম আস্তে আস্তে বিকশিত হতে শুরু করে। ফলে একপর্যায়ে তিনি পবিত্র কুরআন নিয়ে পড়াশুনা শুরু করেন। শেষ পযর্ন্ত ইসলামের অকাট্য যুক্তি ও বাস্তবতার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এভাবেই সুইজারল্যান্ডে ইসলাম-বিদ্বেষী আন্দোলনের প্রধান নেতা সুইস রাজনীতিবিদ ড্যানিয়েল স্ট্রিচ নিজেই ইসলাম গ্রহণ করেন।

 

 

ড্যানিয়েল স্ট্রিচ এখন সামরিক প্রশিক্ষক এবং পৌরসভার সদস্য ও প্রতিশ্রুতিশীল মুসলিম। তিনি নিয়মিত মসজিদে যাতায়াত করেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন ও কুরআন অধ্যয়ন করেন। ইসলাম গ্রহণের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘ইসলাম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর যৌক্তিক জবাব দেয়, যা আমি কখনো খ্রিস্টধর্মে খুঁজে পাইনি। আমি ইসলামের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছি বাস্তবতা।’

 

 

ড্যানিয়েল স্ট্রিচ এখন তার অতীতের কাজের জন্য লজ্জিত। তিনি সুইজারল্যান্ডে ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন। দেশটিতে এখন ৪টি মসজিদ সক্রিয় রয়েছে। ড্যানিয়েলের স্বপ্নের মসজিদটি নির্মিত হলে সুইজারল্যান্ডে মসজিদের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫টিতে। তিনি দেশটিতে ইসলাম বিরোধী যে তৎপরতা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এভাবেই তার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। ড্যানিয়েল এখন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আন্দোলন গড়ে তোলারও চেষ্টা করছেন।

 

 

‘ওপিআই’ নামের একটি ইসলামী সংস্থার প্রধান আবদুল মজিদ আদলি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ইউরোপের জনগণ ইসলাম সম্পর্কে জানতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী। তাদের অনেকেই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসলামের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করতে চান। ঠিক যেভাবে সুইজারল্যান্ডের ড্যানিয়েল এ পথে সচেষ্ট হয়েছিলেন। তিনি ইসলামের মোকাবেলা করতে গিয়ে পবিত্র কুরআনের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক পড়াশুনা শুরু করেন। তিনি চেয়েছিলেন ইসলামের সঙ্গে খুব কঠোর আচরণ করবেন। কিন্তু এর ফল হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত।’

 

 

‘ইসলামের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, যারাই এর মোকাবেলা করতে চায় তাদেরকে এই ধর্ম চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানায়। ফলে ইসলামের খুঁত বের করতে গিয়ে তারা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম উপলব্ধি করতে পারেন। সত্য অনুসন্ধানের ইচ্ছা নিয়ে যারাই ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা করেন তারা এই আসমানি ধর্মের সত্যতা অস্বীকার করতে পারেন না।

Comments

comments

SHARE