দুর্নীতি যে ভাবে বেড়ে চলছে তাতে মনে হয় দেশ যেকোন সময় থমকে যাবে।একটা সময় ভাবতাম কোন একটা প্রযন্ম এসে হয়তো দুর্নীতি বন্ধ করবে।এখন দেখি আশায় বালি।কারনে এখন একজন মানুষ কোথায় চাকুরীতে জয়েন করার পূর্বে পরকল্পনা করে কত বছরে তা দেয়া ঘুষের টাকা তুলবে।আসলে আমরা এমন এচটা সমাজে বাস করি যেখানে ঘুষ ছাড়া কোন কিছু চিন্তাই করতে পারি না।

 

 

 

বিদ্যুৎ বিলে গরমিল, মিটার পেতে দীর্ঘসূত্রতা, ট্রান্সফরমার সংস্কারে অনিয়ম ও গাড়ি সংকটের নামে পিডিবি কর্মচারীদের উৎকোচ গ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগ শুনলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। হয়রানির প্রতিকার চেয়ে হাজি মো. মনছুর আলম মিন্টু নামের চকরিয়ার এক গ্রাহক একপর্যায়ে দুদক কমিশনারের পা ধরে ফেলেন। নগরীর নিউমুরিং এলাকার আবু বকর নামের আরেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের গরমিলের সমাধান চাইলে পিডিবির মিটার রিডার ওমর ফারুক তাকে চারতলা থেকে লাফ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করতে বলেন। সাধারণ মানুষের এমন অভিযোগ শুনে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলীকে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার। গতকাল বুধবার সকালে নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত পিডিবি চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের গণশুনানিতে এসব অভিযোগ করেছেন ৩৮ জন গ্রাহক।

 

হয়রানির কথা বলতে  গিয়ে প্রকাশ্য গণশুনানিতে অঝোর ধারায় কেঁদেছেন চকরিয়ার ছৈয়দ আলমের ছেলে মনছুর আলম মিন্টু। তার অভিযোগ, দুই মিটার দেওয়ার কথা বলে তার বাবা ছৈয়দ আলমের কাছ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন চকরিয়ার তিন পিডিবি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এখন তারা আবার ৫০ হাজার টাকা দাবি করছেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গলা ধাক্কা দিয়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেন চকরিয়া বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী দেব আনন্দ দত্ত, সহকারী প্রকৌশলী মাজহারুল আলম ও আবাসিক প্রকৌশলী ফয়জুল আলিম আলো। এ জন্য গত ১১ মার্চ এই তিনজনকে আসামি করে ছৈয়দ আলম মামলা করেছেন বলেও জানান দুদক কমিশনারকে।

 

 

গণশুনানিতে নিউমুরিং এলাকার আবু বকর বলেন, ‘মনগড়া বিল সম্পর্কে অভিযোগ করলে মিটার রিডার আমাকে চারতলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে বললেন। এতে অত্যন্ত খারাপ লেগেছে আমার।’এই বিষয়ে দুদক কমিশনারের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন গ্র্রাহক আবু বকর।

 

 

শুধু নিউমুরিং এলাকার আবু বকর নন, আগ্রাবাদের আবুল বাশারের মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের পাঁচ হাজার ইউনিটের অমিল, কালুরঘাট শিল্প এলাকার সিরাজুল ইসলামের মিটারেরও একই অবস্থা। এভাবে মোট ৩৮ গ্রাহকের বিলের গরমিলের অভিযোগ শুনানিতে উত্থাপিত হয়।

 

 

পরে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ পিডিবি চট্টগ্রামের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিলের গরমিলের বিষয়টি চোখে পড়ার মতো বিষয়। এসব সংশোধন করতে হবে। বিদ্যুৎ অফিস থেকে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরিয়ে নিতে হবে। যে কর্মচারী গ্রাহকের সমাধান না দিয়ে চারতলা থেকে লাফ দিতে বলেন, তিনি কী ধরনের মানুষ। তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন দুদক কমিশনার। গণশুনানিতে দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. আকতার হোসেন, পিডিবি চট্টগ্রামের চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার সেনসহ দুদক ও পিডিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

সূত্রঃসমকাল

Comments

comments

SHARE