বর্তমানে দেশে ভূয়া ডাক্তারে ভরে গেছে।যার ফলে পত্রিকার পাতা খুললেই শিরোনাম দেখি “ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু”।আসলে আমাদের দায়িত্বের অবহেলার কারনে নিভে যাচ্ছে জীবন প্রদিপ।

 

 

ঢাকার কলেজগেট, বাবর রোড, শ্যামলী, আগারগাঁও এলাকায় অন্তত ছয়টি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক নুরুন্নবী। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। চিকিৎসক না হয়েও নুরুন্নবী ২৩ বছর ধরে অস্ত্রোপচার করে আসছেন। তাঁর মালিকানাধীন ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসকের অস্ত্রোপচারের শিকার হন দিনমজুর চুন্নু ব্যাপারী। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেলে তিনি মারা যান। এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসক ঠেকাতে কী করা যেতে পারে, সে বিষয়ে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ থেকে পাঠকদের কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। পাঠকেরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মতামত জানিয়েছেন।

 

 

খোদ রাজধানীর মতো জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ভুয়া চিকিৎসা চলে আসার ঘটনায় অনেক পাঠক বিস্মিত। পাশাপাশি তাঁরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

 

 

চৌধুরী সৌরভ লিখেছেন, ‘কোন দেশে বাস করি! ২৩ বছর ধরে একজন ভুয়া ডাক্তার অস্ত্রোপচার করে আর এগুলো দেখার কেউ নেই! সাধারণ মানুষ আর কত ভুগবে? বাংলাদেশ তো এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে!’

 

 

আশিক রহমান লিখেছেন, ‘এত বছর ওদের বের করা হয়নি কেন? এ দায় কার?’

 

ভুয়া চিকিৎসকদের সম্পদ জব্দ করে তা ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের দেওয়ার দাবি আশিক রহমানের।

 

ভুয়া চিকিৎসকদের পাশাপাশি তাঁদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন আরিফীন আরিফ। তিনি লিখেছেন, নুরুন্নবীর যাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এই অপকর্ম করেছেন, তাদের বিচার জরুরি।

 

 

মো. হাবিবুর রহমান লিখেছেন, ‘ভুয়া চিকিৎসা এবং খাদ্যে ভেজাল—এই দুই ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণিত হলে ফাঁসি দিতে হবে।

 

 

সালাহ উদ্দিন মির্জা জানিয়েছেন, শুধু শহর নয়, গ্রামগঞ্জেও বেড়েছে ভুয়া চিকিৎসক। তাঁর মতে, এসব ঠেকানোর জন্য কোনো শক্তিশালী আইন নেই। আবার আইন যা আছে, তার যথার্থ প্রয়োগ হয় না।

 

 

ইমন শাহরিয়ার লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকের অভাব নেই। যারা শুধু টাকার জন্য মানুষের জীবন বিপন্ন করে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যথাযথ বিচার না হওয়ায় তারা এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পায়। তাই এই ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এদের দমন করা সম্ভব।’

 

 

মো. আনোয়ার পাশা লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ কী? তারা কি এই বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করতে পারে না? আসলে তাদের অবহেলা আর ফাঁকিবাজির কারণেই মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে।’

 

 

 

ভুয়া চিকিৎসা ঠেকাতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন শাওন হাসানাত। তাঁর মতে, চিকিৎসকদের জাতীয় তথ্যভান্ডার থাকতে হবে। প্রত্যেক চিকিৎসকের বিশেষ কোড থাকবে, যেটা প্রেসক্রিপশনে অবশ্যই উল্লেখ থাকবে। সেই কোড নম্বর দিয়ে চিকিৎসকের সব তথ্য খুঁজে দেখা যাবে। বিনা কোডের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ দেওয়া হবে না। তথ্যভান্ডারে চিকিৎসকের ছবি যুক্ত করা যেতে পারে। তাহলে ভ্যারিফাই করা সহজ হবে। কোন চিকিৎসক কোথায় কোথায় প্র্যাকটিস করেন, তা-ও উল্লেখ থাকতে হবে।

 

 

 

নির্মল চন্দ্র লিখেছেন, সব চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশন প্যাডে থাকতে হবে। বিএমডিসি তদারকি করবে। তাহলে হয়তো প্রতারণা কমবে।

 

 

 

সূত্রঃপ্রথম আলো

Comments

comments

SHARE