মানুষ মানুষের জন্য।যদিও আমরা সবাই জানি এবং ক্ষেত্র বিশেষে মেনে চলি।জীবনে বেচে থাকার জন্য মানুষকে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে চলতে হয়।তাই তো ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে নিজের স্ত্রী চিকিৎসার খরচ মেটাচ্ছেন এই বৃদ্ধ।

ঘোলার মহম্মদ কালাচাঁদ রোডের বাসিন্দা গোবিন্দ জানান, প্রায় এক বছর আগে স্ত্রী সবিতার (৮৫) সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছিল। তারপর থেকেই শরীরের একটা অংশ চলচ্ছক্তিহীন।

প্রবল আর্থিক অনটন। তবু ভিক্ষার দান নিতে নারাজ বৃদ্ধ। স্ত্রীর চিকিৎসা এবং সংসারের খরচ চালাতে সোদপুর স্টেশন কবিতা শুনিয়ে অর্থ উপার্জন করেন ৯৮ বছরের গোবিন্দ দেবনাথ!

ঘোলার মহম্মদ কালাচাঁদ রোডের বাসিন্দা গোবিন্দ জানান, প্রায় এক বছর আগে স্ত্রী সবিতার (৮৫) সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়েছিল। তারপর থেকেই শরীরের একটা অংশ চলচ্ছক্তিহীন। গোবিন্দ বলেন, ‘‘ডাক্তার সবিতাকে দিনে দু’বার করে ফিজিওথেরাপি করাতে বলেছে। এক-একবারে আড়াইশো করে লাগে। শুধুমাত্র ফিজিওথেরাপি’র জন্যই দিনে পাঁচশো টাকা। এরপর তো ওষুধ আছে। অনেক টাকা লাগে।’’

সোদপুর স্টেশন চত্বরে গোবিন্দ। নিজস্ব চিত্র

গোবিন্দের পক্ষে এই বয়সে কোথাও গিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। তবে কারও সামনে হাত পাততে নারাজ তিনি। সেই কারণেই সোদপুর স্টেশনে গিয়ে নিজের রচিত কবিতা শুনিয়ে টাকা উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছেন। গোবিন্দর কথায়, ‘‘আমার রচিত কবিতাগুলি আমার কাছে প্রেমের মতো। তবে সবিতা আমার জীবনসঙ্গী। ও আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছে। এতদিন একা হাতে সব সামলেছে। কীভাবে ওর চিকিৎসা না করিয়ে ফেলে রাখতে পারি।’’

গোবিন্দ জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে পরিবার পূর্ব বাংলা থেকে এসে কৃষ্ণনগরে উঠেছিলেন। তার আগে মাত্র চার বছর বয়সেই তিনি পিতৃহারা হয়েছিলেন। বাবা রেখে গিয়েছিলেন একটিমাত্র তামার পয়সা। সঙ্গে ছিল দুই বোন এবং মা। দিনে শুধুমাত্র এক বেলা খাবার জুটতো। বেশিরভাগ দিন কচু পোড়া খেয়ে থাকতে হত। অনেক সময় বাড়িতে নুনও থাকত না। স্কুলে গিয়ে তাই পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি। তবে পড়ার ইচ্ছে ছিল যথেষ্ট। স্কুল পড়ুয়া পড়শিদের পুরনো বই দিয়েই পড়া শুরু। ছোট থেকেই শব্দ নিয়ে ‘খেলতে’ ভাল লাগত। সেই থেকেই শুরু কবিতা লেখা।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও আশাবাদী গোবিন্দ। তিনি বলেন, ‘‘এখনও অনেক ভাল মানুষ আছেন। সোদপুর ক্লাবের কৌশিক ধর, পরিমল সরকার, এবং সুব্রত উপাধ্যায় আমাকে অর্থসাহায্য করেছেন।’’ সোদপুর ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি কৌশিক বলেন, ‘‘গোবিন্দবাবু খুবই গুণী মানুষ। ওঁকে আরও সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’’

আর গোবিন্দ? তিনি বলেন, ‘‘পরের জন্মে মানুষ হয়ে জন্মালে কবি-ই হতে চাই।’’

সূত্রঃএবেলা

Comments

comments

SHARE