ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ  মৌলিক চাহিদাগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে সরকার হিমসিম খাচ্ছে।ফলে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীদের সংখ্যাবৃদ্ধি পাচ্ছে।তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হল চিকীৎসা ব্যবস্থায়।প্রায় আমরা ভুয়া ডাক্তারের কথা শুনে থাকি।মোবাইল কোর্টের অভিযানে বেড়িয়ে আসছে এই সকল ভুয়া ডাক্তার।

শুধুমাত্র মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট পাশ করেই চান্দিনায় দীর্ঘ দশ বছর গাইনি ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করে আসছিল রাসেদা আক্তার কামরুন্নাহার (৩৩)।
এইচএসসি পরীক্ষায় পরপর দুই বছর অংশ গ্রহণ করেও পাশ করতে ব্যর্থ হয়ে ২০০২ সালে কুমিল্লার ঠাকুরপাড়াস্থ মেডিকেল ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়ে ২০০৫ সালে ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যসিস্ট্যান্ট হিসেবে উর্ত্তীর্ণ হন। পরে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি নিয়ে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেম মাস্টার এর মেয়ে কামরুন্নাহার ১৯৯৯ সালে চৌদ্দগ্রামের কাদৈর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। পরে দেবিদ্বার মহিলা কলেজে দুইবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেননি।

২০০২ সালে কুমিল্লার ঠাকুরপাড়াস্থ মেডিকেল ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়ে ২০০৫ সালে ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে উর্ত্তীর্ণ হন। একই বছর তিনি উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের কৈলাইন গ্রামের ডিপ্লোমা চিকিৎসক খলিলুর রহমান পলাশ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
চান্দিনায় উপজেলার দোল্লাই নোয়াবপুর দক্ষিণ বাজারে ‘নবাবপুর মেডিকেল সেন্টার’ নামে গড়ে ওঠে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র। সেখানেই নিয়মিত চিকিৎসা সেবা চালিয়ে আসছেন ভুয়া গাইনি ডাক্তার কামরুন্নাহার। কামরুন্নাহার নিজের নামে চিকিৎসাপত্রে ‘নাহার কন্সালটেশন সেন্টার’ এবং নিজের নাম ‘ডা. আর.এ.কামরুন্নাহার’ লিখে চিকিৎসাপত্র ছাপান। ওই চিকিৎসা পত্রে কামরুন্নাহার নিজের নামের পাশে ‘সনোলজিষ্ট, মেডিসিন, মা ও শিশু, গাইনি, প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করেন। যা সম্পুর্ণ ভূয়া। এমনকি তার প্রেসকিপশনে বিএমডিসি’র কোন রেজিস্ট্রেশন নাম্বারও উল্লেখ নেই।

নবাবপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে খলিলুর রহমান পলাশ নবাবপুর বাজারের একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ফার্মেসি চালু করেন। সেখানে তার স্ত্রীকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু ডাক্তার পরিচয় পাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন রাশেদা আক্তার ওরফে কামরুন্নাহার। গাইনি ডাক্তার হিসেবে সকলের কাছে নিজের পরিচয় দিতেন তিনি। এই নিয়ে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে প্রায় ৪ বছর পূর্বে খলিলুর রহমান পলাশ এর সাথে কামরুন্নাহারের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এর পরেও ওই ক্লিনিক ছাড়েননি কথিত ওই ডাক্তার কামরুন্নাহার।

এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, ২০১৬ সালে ইলিয়টগঞ্জের সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত রাশেদা আক্তার ওরফে কামরুন্নাহারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এতকিছুর পরও ফার্নিচার দোকানের পাশে ‘নাহার কনসালটেশন সেন্টার’ নাম দিয়ে ক্লিনিকের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই কথিত ডাক্তার।

এদিকে দোল্লাই নবাবপুরে আরও কয়েকটি অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এগুলোর বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।
এব্যাপারে জানতে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাছিমা আক্তার এর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

এব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান জানান, ওই ডাক্তার সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। নবাবপুরে কয়েকটি অনুমোদনবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে। ভুয়া ডাক্তার ও অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Comments

comments

SHARE