মানুষ মরণশীল।মৃত্যু কখনো মানুষকে বলে আসে না।আর মৃত্যুকে আটকানো সম্ভব না।মৃত্যু কখনো বয়সের উপর নির্ভর করে না।এরপরও আমরা কিছু মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয়।

টানা ২৪ ঘণ্টা মুত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক লায়েক আহমদ (৩৪)।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরীর ওয়েসিস হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় তিনি মারা যান।

একটি মামলার হাজিরা দিতে সোমবার সিলেটে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

দুর্ঘটনার আগে তিনি ফেসবুকে তার আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লেখেন ”আমার অবুঝ সন্তানদের আল্লাহর হেফাজতে রেখে যাচ্ছি, আল্লাহর উপর ভরসা ছাড়া আর কিছুই করার নেই”। সত্যি হয়ে গেল তার দেয়া স্ট্যাটাস।

তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আর কখনো ফিরে আসবেন না তিনি। তার ছোট অবুঝ সন্তানদের গালে আর চুমু খেয়ে আদর-সোহাগ করবেন না।

জানা যায়, সিলেটে একটি মামলার হাজিরা দিতে সোমবার সিলেটে যাচ্ছিলেন মোটরসাইকেলযোগে। পথিমধ্যে ধারাহর এলাকায় একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে নগরীর ওয়েসিস হাসপাতালে নেয়া হলে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও তাকে বাচাঁনো যায়নি। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। লায়েকের মৃত্যুও খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও গোটা উপজেলায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

সোমবার সিলেটে যাওয়ার আগে তিনি ফেসবুকে তার আইডিতে দেয়া স্ট্যাটাসে লিখেন, ২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় মিথ্যা অস্ত্র মামলায় দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলাম।

২০১১ সালে জামিনে আসার পর থেকে চলতি বছরেও আমি হাজিরা দিচ্ছি। ৭ মে আমার মামলার আরগুমেন্টের দিন ধার্য করেছেন আদালত। জানি না মামলায় কী হবে। তবে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমি বিচলিত নই। একমাত্র বিচলিত আমার অবুঝ সন্তানদের নিয়ে।

আমার সন্তানদের আল্লাহর হেফাজতে রেখে গেলাম। আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া আর কিছু করার নেই। নিহত লায়েক আহমদের বাড়ি উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নে।

Comments

comments

SHARE