রোযা একটি ফরয এবাদত।ইসলামের পাচঁটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা একটি।আল্লাহ্পাক পবিত্র কুরআন এ বলেন “তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে যেমন ফরয করা হয়েছিল পূর্ববর্তী বান্দাদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার’।

কিন্তু কেউ কেঊ এটিকে বিভিন্ন যুক্তি খাড়া করে এড়িয়ে যেতে চাই। যেমন—–
* আত্মার কষ্ট দিয়ে কি লাভ?
* আমার কি খাবার কম আছে?
* আরে! রোযা রাখে তো গরীবেরা।
* বাবা! আমার গ্যাস্ট্রিক, রোযা কিভাবে রাখব?
* পান -সিগারেট ছাড়তে পারি না, রোযা কিভাবে রাখব?
* একদিন যদি রোযা রাখি বাবা, প্রেসারে আমার জীবন যায় যায় অবস্থা।
এবার দেখুন চিকিৎসা বিজ্ঞান এ বিষয়ে কি বলে।

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় দেখা গেছে, রোযা টিউমার সৃষ্টি ও এর ক্রমবিস্তারের গতিরোধ করে এবং কিছু ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপির পাশাপাশি রোযা থাকলে ওইসব ক্যানসার ভালো হয়ে যায়।

‘আশা করা যায়, গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত আমাদেরকে আরও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতির পথ দেখাবে এবং এ বিষয়ক আরও গবেষণা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ —গবেষক দলটি জানান।

ইঁদুরের উপর একটি গবেষণা চালিয়ে তারা দেখেন যে, খাদ্য-পানীয় গ্রহণ না করলে টিউমার কোষগুলো শরীরের স্বাভাবিক কোষগুলোর থেকে ভিন্ন রকম আচরণ করে। রোযা অবস্থায় টিউমার কোষগুলো স্বাভাবিক কোষের শীতনিদ্রার মতো সুপ্ত বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় প্রবেশ করে না; বরং বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে এবং অবশেষে নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করে ফেলে’—গবেষকরা জানান।

গবেষক দলের প্রধান ভল্টার লংগো, ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন— ‘আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হলো, না খেয়ে থাকলে রক্তে যেসব জিনিসের ঘাটতি দেখা দেয়, ক্যানসার কোষগুলো সেসবের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে। তবে চেষ্টা করলেও কোষগুলো তা করতে পারে না।’

সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় লংগো এবং তার দলটি ইঁদুরের স্তন, মূত্রনালি এবং জরায়ুর ক্যানসারের উপর রোযার প্রভাব কী তা নিয়ে গবেষণা চালান। এতে দেখা যায়, কোনো প্রকার কেমোথেরাপি ছাড়াই কেবল রোযা থাকলে স্তন ক্যানসার, মেলানোমা নামক ত্বকের ক্যানসার, গ্লায়োমা নামক ব্রেইন ক্যানসার এবং নিউরোব্লাস্টোমা নামক স্নায়ুকলার ক্যানসারের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।

উপবাস থাকা যতগুলো ইঁদুরকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি ইঁদুরেরই ক্যানসার চিকিৎসা অধিক কার্যকর হয়েছে। আর উপবাস না রেখে শুধু কেমোথেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে এমন একটি ইঁদুরও বেঁচে থাকেনি।

গবেষকদের মতে, তারা ইতোমধ্যেই ক্যানসার আক্রান্ত মানব শরীরের উপর রোযার প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। তবে আরও কয়েক বছরের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই কেবল নিশ্চিত করে বলা সম্ভব ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যানসার রোগীরা উপকৃত হবেন কিনা।

আরেকটি গবেষণা

মিসরের জাতীয় গবেষণা কেন্দ্রের প্রাণরসায়নের শিক্ষক ড. আবদুল বাসেত মোহাম্মদ সাইয়্যেদ ২১ নভেম্বর ২০০২ রিয়াদে ‌‘আদ-দাওয়াহ’ পত্রিকায় তার একটি গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন। তাতে তিনি দেখিয়েছেন, রোযা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

ড. আবদুল বাসেত বলেন, এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, রোযা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়লে শরীরে বহু রোগ হতে পারে না।

প্রতিরোধ ক্ষমতা, আলফা-১, আলফা-২, বিটা-২ ও গামা নামক প্রোটিন Interferon থেকে সৃষ্টি হয়। দেখা গেছে, রোযার ফলে এ প্রোটিনগুলো বৃদ্ধি পায়। ২৭ রমযান এগুলো চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে, তা থেকে নিচে নামে না; বরং স্থায়ী হয়ে থাকে।

প্রতিরোধ ক্ষমতার দ্বিতীয় সেলটিও চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায়, যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া-জনিত রোগ এবং ক্যানসার সেলকে প্রতিহত করে। এ ছাড়াও এর ফলে আরেকটি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সেটি হলো রক্তের শ্বেতকণিকা।

তিনি বলেন, রোযার ফলে এই প্রতিরোধ ক্ষমতা ৩ থেকে ৫ গুণ বাড়ে। ধর্মীয় আবেগ বাদ দিয়ে যদি শুধু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে তাকাই, তাহলে রোযা ছাড়া অন্য কোন উপায় সার্বিক ও আংশিক প্রতিরোধ কিংবা প্রোটিনের ক্ষমতাবর্ধক ওষুধ দিয়ে এক ধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, কিন্তু তা মানুষের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার মত নয়।

অনুবাদ: আব্‌দ আল-আহাদ

Comments

comments

SHARE