এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষ সেরা হয়েছেন নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে।মূল কথা হচ্ছে সফল ব্যক্তি দুনিয়াতে এমন কিছু কাজ করেন যার সুফল তারা দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতেও ভোগ করবেন।রাসূল (সা.) তার উম্মতের দশটি সেরা গুণের কথা বলেছেন যা তাদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে।

এক. রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। ’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৫০২৭)

দুই. রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী।

’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৬০৩৫)
তিন. মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো। ’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ২৩০৫)

চার. রাসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যার কাছ থেকে সবাই কল্যাণ আশা করে, অনিষ্টের আশঙ্কা করে না। ’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ২২৬৩/২৪৩২)

পাঁচ. রাসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে ভালো। ’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর : ৪১৭৭)

ছয়. মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সেরা মানুষ সে, যার বয়স দীর্ঘ ও কর্ম ভালো হয়। ’ (জামিউল আহাদিস, হাদিস : ১২১০১)

সাত. মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সর্বোত্তম মানুষ সে, যে মানবতার জন্য অধিক কল্যাণকর ও উপকারী। (সহিহুল জামে, হাদিস নম্বর : ৩২৮৯)

আট. মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যার অন্তর পরিচ্ছন্ন ও মুখ সত্যবাদী। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! সত্যবাদী মুখ বোঝা গেল, কিন্তু পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী কে? রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে অন্তর স্বচ্ছ ও নির্মল, মুত্তাকি, যাতে কোনো পাপ নেই, বাড়াবাড়ি বা জুলুম নেই, নেই খেয়ানত ও বিদ্বেষ। (সহিহুল জামে, হাদিস : ৩২৯১)

নয়. মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আর আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম।

’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ১৯৪৪)
দশ. রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবচেয়ে বেশি সুন্দর। ’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৩৫৫৯)

লেখক : ইসলামী গবেষক

Comments

comments

SHARE