ইসলামের স্তম্ভ গুলোর মধ্যে রোযা একটি।রোযা একটি ফারসী শব্দ। এর আরবী হল ‘সওম’। সওম এর আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। শরীয়তের পরিভাষায় ‘জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন মুসলমানের উপর সুবহে সাদিক তথা দিনের একেবারে শুরু ভাগ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযার নিয়তে পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও রোযা ভঙ্গকারী অন্যান্য কার্যাদি থেকে বিরত থাকার নামই হল ‘সওম’ বা ‘রোযা’।

মাসআলা
রোজা অবস্থায় নখ কাটা, চুল কাটা বা ক্ষৌরকর্ম করা

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

রোজা অবস্থায় হাত-পায়ের নখ কাটলে, চুল কাটলে বা কাটালে; ক্ষৌরকর্ম করলে বা করালে রোজার ক্ষতি হবে না। এর সঙ্গে রোজা ভঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। রোজা নষ্ট হয় মূলত পানাহার ও রতিক্রিয়া দ্বারা।

তাই রমজানে রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় হাত-পায়ের নখ কাটা, চুল কাটা বা অবাঞ্ছিত পশম মু-ানো বা কামানো, ছাঁটা বা কাটা অথবা উপড়ানো জায়েজ আছে; এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

তবে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতের খেলাফ কোনো কাজ সবসময়ই নিষেধ; বরং তা রমজানের ইবাদতের মাসে আরও বেশি ক্ষতির কারণ। তাই রমজানে রোজা অবস্থায় কোনো ধরনের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতের বরখেলাফ কোনো কাজ অবশ্যই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও অধিক নিন্দনীয়।

অনেককে দেখা যায়, রমজানে দিনের বেলায় যে গোনাহের কাজটি করছেন না, রাতের বেলায় অবলীলায় তা করছেন; এটি মূর্খতা ছাড়া কিছু নয়। (ইমদাদুল আহকাম; ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম)।

 

প্রথমতঃ আল-কুরআনের মাসে নামাজে আপনাকে আল-কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু স্বয়ং আল্লাহর রাসূলের কাছে দুইবার তাফসির পড়েছেন। সাহাবারাও একজন একটা আয়াতের উপলব্ধি না জানলে সেটা অন্য সাহাবাদের থেকে জেনে নিতেন। এভাবে নিজেরা কুরআন উপলব্ধি করতেন, আমল করতেন, শত্রু থেকে নিজেকে আল্লাহর হেদায়াতের ছায়াতলে আশ্রয় নিতেন।

পাকিস্তানের বিখ্যাত মুফাসসির ডা. এসরার আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) ২০টি তাফসির থেকে নিজে তাফসির করেছেন, এতটাই অসাধারণ ব্যক্তিত্ব তিনি ছিলেন। তিনি তারাবিহর নামাজে প্রতি চার রাকাতে কুরআনের কোন অংশে কী পঠিত হবে সেইটুকুর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা করে আগে নামাজিদের বুঝিয়ে দিতেন। এভাবে প্রতি চার রাকাত পর পর তিনি আলোচনা করতেন। এভাবে নামাজে দীর্ঘ সময় লাগলেও তিনি আল্লাহর বাণীর সাথে নামাজিদের সংযুক্ত করানোর চেষ্টা করতেন, যেন কেউ নিজেকে নামাজ থেকে পৃথক না ভাবেন, আল্লাহ থেকে দোকানের বা বাড়ির হিসেব নিয়ে না বসেন। হেদায়াতের জায়গায় যেন আল্লাহর রহমত ও হিদায়াত নিতে পারেন।
আল্লাহ বলেন,

“আমি কুর’আনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ (হেদায়াত) নেওয়ার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?” (সূরা কামারঃ ১৭)।

এছাড়াও আরো একটি বহুল প্রচলিত হাদিস আমরা জানি।

‘তোমাদের মধ্যে সর্বাপক্ষা উত্তম ওই ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে তা শিক্ষা দান করে।’ (বুখারি, মুসলিম)।

সুতরাং নিজে শিখুন, যে জানে তাঁর থেকে শিখুন, নিজেরা সূরাভিত্তিক আলোচনা করুন তাফসির পড়ে, জীবনের জন্য কি কি শিক্ষা পেলেন সেগুলো আমল করার চেষ্টা করতে থাকুন।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

“তারা কি কুরআন সম্বন্ধে চিন্তা-গবেষণা করে না- না কি তাদের অন্তরসমূহ তালাবদ্ধ?”। (সূরা মুহাম্মাদ : ২৪)

এই আয়াতটি অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে উপলব্ধির দিক থেকে। কুরআনকে তালাবদ্ধ রেখে আপনি এর থেকে উপকারিতা পাবেন না, যদি না এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন; যেমনি তালাবদ্ধ ঘরের উপকারিতা পাবেন না যদি না এর ভেতরে প্রবেশ করে এর উপকারিতা না নিতে পারেন। এই আয়াতে কেবল স্বাভাবিক উপলব্ধির কথাই বলেন নি, বরং রীতিমতো চিন্তা-ভাবনা-উন্নতভাবে গবেষণা করতে বলেছেন আল্লাহ সুবহানাহু; যেন এর থেকে আল্লাহর বাণীর যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে জীবনকে সর্বোচ্চ উন্নত করা যায়, পূর্ণভাবে সফল হওয়া যায়।

সুতরাং কী কী পড়া হবে সেই অনুযায়ী ভালো করে অনুবাদ ও তাফসির পড়ে যান, সেগুলো থেকে কী কী শিক্ষা পেলেন সেগুলো তিলাওয়াতের সময় ভাবতে থাকুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

দিত্বীয়তঃ খাবারের ব্যাপারে নিয়ন্ত্রিত হোন

বেশি খাবার থেকে বিরত থাকুন, কেননা এটি আপনাকে অলস করে তুলবে, চিন্তাশীল হতে বাঁধা দেবে। হেদায়াত আল্লাহর হাদিয়া হলেও আপনাকে এর জন্য চিন্তাশীল হতে হবে যেরূপ উপরে বলা হয়েছে। পূর্ববর্তী আলেমরা জ্ঞানার্জনের ওপর বই লিখলে সেখানে খাবারের কথাও থাকতো সবসময়। কম খেতে উপদেশ দিতেন, যেন বেশি জেগে থাকতে পারেন, আলস্যে বেশি ঘুম না আসে, তাহাজ্জুদ যেন ছুটে না যায়।

তারা পুষ্টিকর খাবার খেতে বলতেন। এজন্য যতদূর সম্ভব ভাজাপোড়া, জাংকফুড, বাইরের খাবার, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার যেন কম খাই, দেহকে সুস্থ রেখে চলি।

খাবার কম খান, তবে আলস্য আসবে না, আল্লাহর কালাম এবং নামাজে মনোযোগী হতে পারবেন ইন শাআ আল্লাহ।

Comments

comments

SHARE